
নৈহাটি: দুই মাসের কন্যাসন্তানকে খুনের অভিযোগ উঠল মা-বাবার উপর। শুধু তাই নয়, তড়িঘড়ি শিশুর দেহ মাটিতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দাদুর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির। শিবদাসপুর থানার পুলিশ মৃত শিশুর বাবা ও দাদুকে গ্রেফতার করেছে। তবে সন্তানকে খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৃত শিশুর মা।
নৈহাটির শিবদাসপুর থানা এলাকার মামুদপুর অঞ্চলের বাসিন্দা অপূর্ব বন্দ্যোপাধ্যায় ও সমাপ্তি বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের দুই কন্যাসন্তান। বুধবার সকালে এলাকায় শোরগোল পড়ে। অভিযোগ ওঠে, অপূর্ব ও সমাপ্তি তাঁদের ২ মাসের ছোট মেয়েকে খুন করেছেন। আর মৃত শিশুর দেহ ফাঁকা জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে পুঁতে দিয়ে আসেন শিশুর দাদু বিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়। খবর পেয়ে আসে শিবদাসপুর থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় শিশুর বাবা ও দাদুকে। পুলিশ ওই শিশুর মৃতদেহ মাটি খুঁড়ে তুলে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।
কী বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা?
ওই দম্পতি মদ্যপ বলে অভিযোগ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ছোট শিশুটিকে খুন করা হয়েছে। চন্দ্রাণী মণ্ডল নামে স্থানীয় এক মহিলা বলেন, “শুনেছি বউটা প্রত্যেকদিন মদ খায়। যদি বাচ্চা না রাখতে চায়, অন্য কাউকে দিয়ে দিতে পারত। আমরা চাই, ওদের শাস্তি হোক।” লক্ষ্মী বিশ্বাস নামে অন্য এক মহিলা বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ওদের বাড়িতে যাই। গিয়ে জিজ্ঞাসা করি, আপনারা মারলেন কেন? কিন্তু, ওরা কোনও উত্তর দিতে পারেনি।” প্রিয়াঙ্কা পাঠক নামে আর একজন বলেন, “আমরা গতকাল পর্যন্ত দেখেছি, বাচ্চা মেয়েটি সুস্থ। কোনও শরীর খারাপ ছিল না। ওরা স্বামী-স্ত্রী প্রচুর মদ খান।”
খুনের অভিযোগ অস্বীকার মৃত শিশুর মায়ের-
সন্তানকে খুনের অভিযোগ অস্বীকার করে সমাপ্তি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “২-৩ দিন আগে আমার মেয়ের খুব ঠান্ডা লেগেছিল। একটু অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডাক্তার দেখানো হয়। কালকে রাত পর্যন্ত ভালোই ছিল। রাতে মাঝেমধ্যে উঠেছি। মেয়েকে খাইয়েছিল। হঠাৎ করে কোথা থেকে কী হল, আমরা কেউই বুঝতে পারিনি। ভোর সাড়ে পাঁচটায় যখন আমি ঘুম থেকে উঠি, তখন দেখি আমার মেয়ে শুয়ে রয়েছে। কোনও নড়াচড়া করছে না। নিশ্বাসও পড়ছিল না। নাক থেকে একটু ফেনার মতো পড়েছিল। আমি আমার স্বামীকে ডাকি। আমার স্বামী উঠে দেখে। স্বামীকে বলি, একবার তো হাসপাতালে নিয়ে চলো। দেখি, কী হয়েছে। আমার স্বামী বলল, নিয়ে গিয়ে কিছু লাভ হবে না। মেয়ে মারা গিয়েছে।”
এরপরই তিনি বলেন, “তখন আমি বললাম, তোমার বোনকে একবার খবর দাও। বাড়ির লোককে খবর দাও। আমার স্বামী বলল, কাউকে খবর দেব না। কারণ, আমার যখন মেয়ে হয়, তখন কেউ মুখ দেখতে আসেনি। তবে মেয়ে হওয়ার জন্য আমাদের কোনও অসুবিধা ছিল না।”
সন্তানকে খুন করেননি জানিয়ে সমাপ্তি বলেন, “নিজের সন্তানকে আমি কেন মারব? আমি বারবার বললাম, চলো একবার হাসপাতালে নিয়ে চলো। আমার শ্বশুর জোর করে আমার কোল থেকে কেড়ে নিয়ে একটা কোদাল নিয়ে চলে যায়। আমার স্বামী বলল, মেয়ে মারা গিয়েছে। দিয়ে দাও।”