
ব্যারাকপুর: সরকার বদলাতেই হাওয়া বদল জুটমিলে। নতুন করে অক্সিজেন পেলেন প্রায় ২ হাজার ৭০০ কর্মী। খুলে গেল নৈহাটি জুটমিল। তাতেই আনন্দে আত্মহারা জুটমিলের শ্রমিকরা। আনন্দে কেউ ফাটাচ্ছেন বাজি, কেউ আবার করছেন লাড্ডু বিতরণ। এদিকে তৃণমূল জমানায় গত ১৫ বছরে লাগাতার ধস নেমেছে জুট শিল্পে। কিন্তু অবস্থা বদলাতে বদ্ধপরিকর নতুন বিজেপি সরকার। শ্রমমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই বন্ধ কারখানা খোলার জন্য বারে বারে শ্রমিক-মালিক-সরকারের আমলাদের নিয়ে প্রতিদিনই শ্রম দফতরে বৈঠক করছেন অর্জুন সিং। এরইমধ্যে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলেই পরপর তিনটি জুটমিল খুলে গেল।
সম্প্রতিককালের ছবি দেখলে দেখা যায় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ১৮টি জুটমিল তালাবন্ধ অবস্থায় পড়েছিল। কিন্তু বিজেপি সরকারে আসার পর থেকেই দ্রুত ছবিটা বদলাতে থাকে। প্রথমে খুলে যায় ভাটপাড়া রিলায়েন্স জুটমিল, জগদ্দলে খুলে যায় অ্যালায়েন্স জুটমিল, এরপরে কাঁকিনাড়াতেও খুলে যায় আরও এক জুটমিল। সাম্প্রতিক সময়ের অচলাবস্থা নিয়ে অর্জুন সিং যদিও তৃণমূল কংগ্রেসকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। তীব্র কটাক্ষের সুরে বলেছেন, “তৃণমূল সরকার মিলে যাতে না চলে তার চেষ্টা করতো। সব সময় শ্রমিকদের মধ্যে ঝামেলা বাঁধিয়ে রাখতো। মিলের ভালো কিছু চাইতো না।”
এখন মিল খুললেও শ্রমিক থেকে মালিকদের কড়া বার্তাও দিয়েছেন মন্ত্রী। বণিক ও শিল্পমহলে রাজ্যের শিল্প সম্পর্কে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আনতে শ্রমিক-মালিক উভয়কে উভয়ের স্বার্থ মেনে কাজ করার নির্দেশও দিয়েছেন। অর্জুন বলেন, “শ্রমিকদের কোনওভাবেই কাজে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। তেমনই মালিকদেরও শ্রমিকদের ক্ষমতার তুলনায় ওয়ার্কিং লোড বাড়িয়ে দেওয়া চলবে না। শ্রমিকদের ক্যান্টিন এবং অন্যান্য সুবিধা দেখতে হবে।” পাশাপাশি কোনও মিলেই যাতে শ্রমিক অসন্তোষ না হয় তার জন্য সরকারের সতর্ক নজর রয়েছে বলেও জানান তিনি।