
উত্তর ২৪ পরগনা: সিবিআই-এর তদন্তের ভূমিকা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিলোত্তমার বাবা-মা। সুপ্রিম কোর্টেও এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ জানিয়েছিলেন দিল্লির সিবিআই দফতরেও। এবার নড়েচড়ে বসল সিবিআই। ১৯৫ দিন পরে CBI আবার নড়েচড়ে বসেছে। তদন্তের স্বার্থে ১২ পুলিশ কর্মীকে তলব করেছে সিবিআই।
দিল্লিতে CBI দফতরে ডিরেক্টরকে অভিযোগ জানানোর পরই CBI তদন্তের মোড় ঘুরেছে। তবে তিলোত্তমার বাবা-মায়ের চ্যালেঞ্জ, যে করেই হোক, তাঁরা তাঁদের মেয়ের বিচার পেয়েই ছাড়বেন। আদালতের উপর তাঁদের ভরসা রয়েছে।
তিলোত্তমা বাবা বলেন, “বলে হয়তো স্বশাসিত সংস্থা। তবে এই পাঁচ মাসে আমার যা ধারণা জন্মেছে, তাঁরাও কারোর না কারোর দ্বারা প্রভাবিত হয়। শিয়ালদহ কোর্টের যে রায়ের কপি, বিচারক অনির্বাণ দাসের যে সমস্ত পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেগুলিই আমরা সিবিআই ডিরেক্টরের কাছে তুলে ধরেছিলাম। জানিয়েছিলাম, মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেট এখনও আমরা পায়নি। সিবিআই-এর ডিএসপি গর্ব করে বলছিলেন, তাঁরা নাকি একজনকে কনভিক্ট করে সাজা পাইয়ে দিয়েছেন। কিন্তু কীরকম হল এটা, যেখানে আমার মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেটই পেলাম না, সেখানে একজন কনভিক্ট হয়ে তার যাবজ্জীবন হয়ে গেল…”
তিনি আরও বলেন, “সিবিআই রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ ফোন করে উল্টে আমাকেই প্রশ্ন করে, আমরা কেন ডেথ সার্টিফিকেট পেলাম না। আমরা বলি, সেটা তো আপনাদেরই জানার কথা। চার্জশিট দেওয়ার পর তো সিবিআই আর নড়াচড়া করছিল না। আজ দেখলাম ১৯৫ দিন পর সিবিআই ১২ জন পুলিশ কর্মীকে ডাকল।” তবে আদালতের ওপর তাঁদের ভরসা রয়েছে বলেও জানালেন তিলোত্তমার মা। তিনি বলেন, “যেদিন আমি সেমিনার রুমে মেয়ের রক্তাক্ত মুখটা দেখেছিলাম, সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, বিচার আমরা ছিনিয়ে আনবই। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন আমাদের এই লড়াই।”
প্রসঙ্গত, শিয়ালদহ আদালতে শুনানি চলাকালীনও ফার্স্ট জাজ অনির্বাণ দাসের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে সিবিআই-কে। তদন্তের একাধিক খামতির দিক উঠে এসেছে। কেন ৯০ দিনের মধ্যেও চার্জশিট জমা দিতে পারেনি, তা নিয়ে হাইকোর্টেও ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় সিবিআই-কে। সুপ্রিম কোর্টেও শুনানি চলাকালীন এই বিষয়টিই উল্লেখ করেছিলেন তিলোত্তমার বাবা-মা।