
বনগাঁ: রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের দাপুটে নেতা শঙ্কর আঢ্যকে। সকাল থেকে নেতার বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন ইডির অফিসাররা। নেতার বাড়ি, তাঁর শ্বশুরের বাড়ি-সহ বনগাঁর মোট পাঁচটি জায়গা হানা দিয়েছিল ইডির পৃথক পৃথক টিম। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ পর্বের শেষে মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয় শঙ্কর আঢ্যকে। আর এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নেতার স্ত্রী জ্যোৎস্না আঢ্য। তাঁর দাবি, এক ইডির অফিসার গ্রেফতারি আগে শঙ্করবাবুকে বলেছেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নাকি তাঁর নাম নিয়েছেন।
শঙ্কর আঢ্যর স্ত্রী জ্যোৎস্না আঢ্যও অতীতে কাউন্সিলর ছিলেন বনগাঁর। এলাকায় আঢ্য পরিবারের বেশ দাপট আছে বলেই জানা যায়। শুক্রবার মধ্যরাতে শঙ্করবাবুর গ্রেফতারির পরই বেজায় চটেছেন তাঁর স্ত্রী। জ্যোৎস্না আঢ্যর দাবি, সকাল থেকে সারাদিন ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু রাত ১২টার পরই নাকি পরিস্থিতি বদলে যায়। তাঁর কথায়, “শেষে রাত ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ দেখলাম, একজন অফিসার এলেন। তিনি একটা কাগজ দেখালেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। বললেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আপনার নাম বলেছে, কিংবা কেউ বলেছে… তার জন্য আপনাকে গ্রেফতার করলাম।” তাঁর স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি জ্যোৎস্না আঢ্যর।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসারদের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বললেন, “রাত সাড়ে ১২টার সময় নাটক করল। বলল, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের জন্য আপনাকে গ্রেফতার করলাম।” তবে জ্যোৎস্না আঢ্যর দাবি, রাজনৈতিক সম্পর্কের বাইরে অন্য কোনও সম্পর্ক বালুর সঙ্গে তাঁদের ছিল না। বললেন, “জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তো জেলা সভাপতি ছিলেন। সবার কাছেই তো আসতেন। আমরাও যেতাম।” শঙ্কর-জায়ার দাবি পুরোটাই ‘নাটক’। গোটা দিন ধরে ইডির অফিসারদের সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা করা হয়েছে বলেও দাবি নেতার স্ত্রী। বললেন, ” লাস্টে একটা অফিসার ব্যাগের থেকে একটা কাগজ বের করে দেখাল। বলল, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের জন্য গ্রেফতার করলাম।” প্রতিটি কথায় ছিল ক্ষোভ, রাগ।