
খড়দা: সকালে নির্মল। রাতে সঞ্জীব। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) নির্দেশের পরই ব্যাক টু ব্যাক অ্যাকশন পুলিশের। তিলোত্তমার মৃতদেহ তড়িঘড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালেই নির্মল ঘোষকে (Nirmal Ghosh) গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। স্ক্যানারে ছিলেন প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীবও (Sanjib Mukherjee Arrested। অবশেষে তাঁকেও গ্রেফতার করল খড়দহ থানার পুলিশ। তবে, নির্মল ও সঞ্জীব ছাড়া আরও এক অভিযুক্ত সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তিলোত্তমার বাবা। এখনও তাঁর খোঁজ মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, তিলোত্তমার বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরেই বাড়ি সঞ্জীবের। তবে, তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না প্রথমে। পরিচারিকার দাবি, গত তিন-চার দিন ধরে বাড়িতে নেই সঞ্জীববাবু। কাজের সূত্রে বাইরে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পরে টিভি৯ বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হলে সঞ্জীব জানিয়েছিলেন, কাজের সূত্রে বাইরে রয়েছেন। খুব শীঘ্রই ফিরবেন। তিনি নিজেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। তদন্তের কাজে সহযোগিতা করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। ঠিক তাঁর এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করল।
জানা গিয়েছে, সঞ্জীব নিজেই পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে পানিহাটি অম্বিকা মুখার্জী রোড সিআর পার্কে তাঁর বাড়ি থেকেই সঞ্জীবকে গ্রেফতার করেছে খড়দহ থানার পুলিশ। এখন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মূলত, তথ্যপ্রমাণ লোপাট, বাড়ির লোককে বিপথে পরিচালনা করা, তড়িঘড়ি দেহ সৎকার, জোর করে বাড়ি থেকে মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া…এই ধরনের অভিযোগগুলি উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ অগস্ট তিলোত্তমার স্মরণসভায় শুভেন্দু বলেছিলেন, “দয়া করে নতুন কেস চালু করুন। দ্রুত অ্যকশন নিন। আমার যা করার আছে করব। অভয়াকে ভুলিনি। মানুষ জিতিয়েছেন এই কেসের বিচারের জন্য। আমি কমিটেড।” তাঁর এই নির্দেশের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আজ সকালে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুরী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। একইদিনে পুলিশের জালে আরেক অভিযুক্ত সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ও।