
বনগাঁ: নাবালিকাদের বিয়ে আটকাতে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে বার্তা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘বাড়ি থেকে তুলে আনব’। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পর থেকে অ্যাকশনে পুলিশ। ময়দানে নেমে একের পর এক নাবালিকার বিয়ে রুখে দিচ্ছেন তাঁরা। আবার যদি মনে করেন দুই বছর আগে নাবালিকাকে বিয়ে করে পার পেয়ে যাবেন, সেই সম্ভাবনা কিন্তু একেবারেই নেই। সম্প্রতি, সেরকমই একটি ঘটনা ঘটেছে বনগাঁতে। নাবালিকা বিয়ের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে।
উত্তর ২৪ পরগনা পেট্রাপোল থানার খোলিদপুর এলাকা। ওই এলাকারই বাসিন্দা ২৭ বছরের বিক্রম বিশ্বাস। দেড় বছর আগে তাঁর সঙ্গে ১৬ বছরের ওই নাবালিকার বিয়ে হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই এই বিষয়ে চাইল্ড হেল্পলাইনের তরফ থেকে পেট্রাপোল থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ পেয়ে তৎপর হয় পেট্রাপোল থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় স্বামী বিক্রম বিশ্বাস, শ্বশুর বিষ্ণু বিশ্বাস ও শাশুড়ি নীলিমা বিশ্বাসকে। ধৃতদের আজ বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হবে।
যদিও নাবালিকার শাশুড়ির দাবি, তাঁরা বিয়ে দিতে চাননি। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা বিয়ে দিইনি। ওই মেয়েটা আত্মহত্যা করার চেষ্টা করছিল। ওর মা-বাবা ওকে মারছিল। তারপর সোজা চলে এল আমাদের বাড়িতে। তখন আমাকে বলে যে মা আমি তোমাদের বাড়ি আসলাম, আমাকে জায়গা দাও। তাই আমরা জায়গা দিয়েছিলাম।” যদিও এই বিষয়ে নাবালিকার পরিবারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দিন কয়েক আগেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন,”আঠারো বছরের নিচে বিবাহতে আমরা প্রথম। কোন জমানায় বসে আছেন? আঠারো বছরের নিচের কন্যারা সন্তানের জন্ম দিল। কারা করালেন? প্রথমে তাঁদের স্বামীদের জেলে ঢোকাতে হবে। এই সরকার কিন্তু ছাড়বে না। থামাতে হবে। বাড়ি বাড়ি থেকে তুলে আনব। এই স্বামীদের শোকজ চিঠি পাঠানো হবে। দেখাতে হবে মহিলার বয়স ১৮ হয়েছে। আর আঠারো বছরের নিচে বিয়ে করলে তো আগেই পকসো আইনে জেলে যাবে।”