
দুর্গাপুর: রাজত্ব নেই, কিন্তু দাপট আছে। সেই আগের মতো টাকা চাওয়ার অভ্যাসটাও যায়নি! প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা ভাবতেও পারেননি অ্যাম্বুল্যান্স চালক। সরকার বদলের পর থেকে অভিযুক্তকে মাসে মাসে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। সেই কারণেই তাঁরে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ দুর্গাপুরের অ্যাম্বুল্যান্স চালকের।
দুর্গাপুরের গান্ধীমোড় সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালের সামনে থাকা অ্যাম্বুলেন্সের চালক মানিক ধীবরের অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে মাসোহারা দিতে হত দুর্গাপুরের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর হীরালাল বাউরিকে। ভয়ে তোলার টাকা অনলাইন মারফত প্রতি মাসে তৃণমূল নেতা হীরালাল বাউরিকে পাঠিয়েও দিতেন তিনি। রাজ্যে পালাবদল হওয়া পর যখন তোলাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়, তখন টাকা দিতে অস্বীকার করেন মানিক। তোলাবাজির টাকা না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক মানিক বাউরিকে মদ্যপ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আবেদন জানাচ্ছেন অ্যাম্বুলেন্স চালক। তিনি মেইল করে পুলিশে অভিযোগও দায়ের করেন। আহত চালকের দাবি, হীরা বাউরি বর্তমানে কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত নয়, তারপরও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ৪০টা অ্যাম্বুল্যান্স চলে, প্রত্যেকটির চালককে ১০ হাজার টাকা করে দিতে হত বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি বলেন, “টাকা দিইনি বলে জানে মেরে ফেলা হচ্ছিল। নিরাপত্তা চাই।” ইতিমধ্য়েই প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার হীরালাল বাউরিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হীরালালের দাবি, টাকা নিয়ে কোনও সমস্যাই হয়নি।
মানিক বাউরির অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বলেন, “আমাকে জাতপাত নিয়ে গালিগালাজ করা হয়েছিল বলে বচসা হয়। ওদের কাছ থেকে আমি কখনও তোলার টাকা নিই না।”