
আসানসোল: কুকুরে মুখে মৃত ভ্রূণ শিশুকন্যা। বিষয়টি লক্ষ্য করেই শিউরে ওঠেন পথ চলতি মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা তাড়া করতেই, রাস্তার উপর ফেলে মৃত শিশুকন্যাকে ফেলে পালিয়ে যায় কুকুরটি। তবে শিশুকন্যাটি অপরিণত। অনুমান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই অপারেশন করে ভ্রূণ বের করা হয়েছে ও ফেলে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে রানিগঞ্জের স্কুল মোড় সংলগ্ন রাজপাড়া যাওয়ার রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে। মৃত শিশু কন্যা কোথা থেকে এল, তার খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রানিগঞ্জে কোনও নার্সিংহোম বা বেসরকারি হাসপাতালে নিশ্চয় অবৈধভাবে ভ্রুণ অপারেশন হয়েছিল। তারপর মৃত সদ্যোজাতের দেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে আবর্জনা বা নর্দমায়। কিংবা এমনটাও অনুমান করা হচ্ছে, কোনও কুমারী মেয়ে বাড়িতে গোপনে কোয়াক ডাক্তারকে দিয়ে অপারেশন করিয়ে এই শিশুকে ফেলে দিয়েছে। ঘটনার তদন্তের দাবি তুলেছেন রানিগঞ্জবাসী।
এদিকে এই ঘটনার খবর পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর পর রানিগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই মৃত সদ্যোজাত মৃত শিশু কন্যাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় আসানসোল জেলা হাসপাতালে। পুলিশ জানিয়েছে এলাকার মধ্যে লাগানো বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরাগুলির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য এক বছর আগে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। যেখানে দেখা যায় কন্যাসন্তান জন্মের হারে করুণ দশা রানিগঞ্জে! হরিয়ানার থেকেও পিছনে পড়ে গিয়েছে রানিগঞ্জে কন্যা সন্তানের জন্ম হার।রানিগঞ্জ শহর এলাকায় কন্যা সন্তান জন্মের হার ৮৩৩। কন্যার জন্মের গড় সাড়ে ৮০০র নীচে নেমে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনূস তখন জানিয়েছিলেন , “২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যে বার্থ রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে জেলার কয়েকটি জায়গায় কন্যা সন্তানের জন্মের হার কিছুটা কম। তার মধ্যে অন্যতম রানিগঞ্জ।”
২০১১ সালের সেনসাস অনুযায়ী, শূণ্য থেকে ৬ বছরের শিশুদের লিঙ্গ হার হল ৯৬৩। অর্থাৎ এক হাজার পুত্রর পাশাপাশি কন্যা সন্তান জন্ম হয়েছে ৯৬৩ জন। যার ধারা দশ বছর পরও অব্যহত। সেই বাংলার অংশ হয়ে রানিগঞ্জ ব্লকের গড় নেমে গিয়েছে সাড়ে আটশোর নীচে। স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,রানিগঞ্জ ব্লকের হার এক হাজার পুত্র পিছু কন্যা ৮৭৯, কাঁকসা ৮৮৬, পাণ্ডবেশ্বর ৮৯৩ বারাবনি ৯৪৩। সবচেয়ে ভালো গড় রয়েছে সালানপুর ব্লক ১০০৬, আসানসোল পুরসভার জামুড়িয়া এলাকা ১০৭৬, জামুড়িয়া ১০০০।
কন্যা শিশুর দেহ রাস্তায় পড়ে থাকার পর আবারও কন্যা ভ্রূণ হত্যার সেই বিতর্ক উস্কে দিল এদিন। বিজেপির অভিযোগ, এই সমস্যা দূর করতেই প্রধানমন্ত্রী ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচি নিয়েছিলেন। সারা বাংলায় আপনি একটিও ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ হোর্ডিং পাওয়া না। তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।