
দুর্গাপুর: টাকার প্রলোভন দেখিয়ে স্কুলপড়ুয়া নাবালকদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্ত সংগ্রহ করার অভিযোগ। অভিযোগের পরেই তোলপাড় শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর জুড়ে। অভিভাবক সুখেন পালের অভিযোগ এইভাবে রক্ত নেওয়া উচিত হয়নি। যারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তির দাবি করেন তিনি । যাঁরা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তাঁদের শাস্তি হবেই হুঁশিয়ারি মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের।
অভিযোগ, দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীর একটি বেসরকারি স্কুলের তিন নাবালক পড়ুয়াকে টাকার লোভ দেখিয়ে বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক রোগীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তাদের রক্তদান করানো হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ রক্ত সংগ্রহের জন্য সরকারি নথিতেই নাবালকদের বয়স বদলে সাবালক হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ঘটনার নেপথ্যে ওই স্কুলেরই এক প্রাক্তন ছাত্রের নাম উঠে এসেছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে সে দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গি টিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র বলে অভিযোগ।
এর পিছনে আরও বড় কোনও সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ।অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। স্কুলের অধ্যক্ষা দেবযানী বোস জানিয়েছেন বিষয়টি জানতে পারার পরেই পুলিশকে জানিয়েছেন । তিনি জানিয়েছেন এজেন্টের মাধ্যমে নাবালকদের শরীর থেকে রক্ত নেওয়া হচ্ছে। এটি অত্যন্ত গুরুতর এবং বড় ধরনের অপরাধ। ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানিয়েছেন বিষয়টি নজরে এসেছে। স্কুলের প্রিন্সিপালের সঙ্গেও তিনি কথা বলছেন বলে জানান । পুলিশকে জানানো হয়েছে। ছোট ছোট ছেলেদের টাকার লোভ দেখিয়ে রক্ত নেওয়া হচ্ছে। যারা এই জঘন্য অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।
অন্যদিকে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার জানান পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের কাছে এই খবরটা এসেছে। পদক্ষেপও করা হচ্ছে। বাংলায় ৮০ টার মতো ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে, তাদের ওপর নজরদারির কাজ শুরু করেছি। বেশ কিছু অসঙ্গতিও দেখা গিয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম ছোটখাটো কোনও ইস্যু হবে। কিন্তু প্রায় ৪ কোটি টাকার মতো প্লাজমা বিক্রি হয়। ভিন রাজ্যে পাচার করা হয়েছে, আমাদের অনুমোদন ছাড়া। নাবালকদের কাছ থেকে রক্তদান করছেন। সাধারণ মাত্রার থেকে বেশি রক্ত নিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে বেশি প্লাজমা পেতে পারে। “