
দুর্গাপুর: বৃষ্টিভেজা সোমবার সকাল। ঘড়ির কাঁটায় তখন ৮টা। দুর্গাপুরের নিউ স্টিল পার্কে হানা দেয় সাদা গাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে এলাকার গোলাম জামার বাড়ির খোঁজ করতে থাকেন কয়েকজন। স্থানীয় বাসিন্দারাই দেখিয়ে দেন বাড়ি। কিন্তু তখনও তাঁরা জানতে পারেননি, ওঁরা আসলে এনআইএ আধিকারিক। পরে যতক্ষণে জানতে পারেন, গোলামের বাড়ির সামনে জমতে থাকে ভিড়। কিন্তু একজন টায়ার সারাইয়ের বাড়িতে কেন হানা এনআইএ আধিকারিকদের? ভিড়ে জমেছে সাংবাদিকদেরও। এক চালা বাড়ির বাইরে যে ফোর্স ছিল, তাঁদের কাছ থেকে জানা যায় এনআইএ আসার কারণ। আর সে কারণ শুনে চক্ষু চড়কগাছ স্থানীয় বাসিন্দাদের। গোলাম নাকি মানবপাচারের সঙ্গে যুক্ত!
নাশকতা-মানবপাচারর অভিযোগে দুর্গাপুরের নিউ স্টিল পার্ক এলাকায় গোলাম জামা বাড়িতে এনআইএ তল্লাশি চালায়। বাড়ি ঘিরে রেখেছে ফোর্স। ছ’জনের দলে একজন মহিলা আধিকারিকও রয়েছেন বলে খবর। সঙ্গে আছে পুলিশের বিশাল বাহিনী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, বছর তিনেক ধরে ওই এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া রয়েছেন গোলাম। পড়শিরা জানাচ্ছেন, গোলাম প্রতিবেশীদের সঙ্গে তেমন মেলামেশা করেন না। অন্ডাল এলাকায় একটি টায়ার সারাইয়ের দোকানে কাজ করেন।
তবে এলাকাবাসীদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে ও মালয়েশিয়ায় যোগাযোগ ছিল গোলাম জামার। কী কারণে যোগাযোগ, তা জানার চেষ্টা করছেন আধিকারিকরা।
অভিযোগ, বিভিন্ন কাজের লোভ দেখিয়েই মানবপাচার করতে গোলাম। NIA-এর দাবি, জাল পাসপোর্ট চক্রের সঙ্গেও জড়িত গোলাম। জাল পাসপোর্ট বানিয়ে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে পাঠাতেন গোলাম। সেখানে নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে তাঁদেরকে যুক্ত করা হত বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই ছত্তীসগঢ় থেকে এই অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। তাদের কাছ থেকেই উঠে আসে গোলামের নাম। এই গোলামের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই নজর রাখছিলেন তদন্তকারীরা।