
আসানসোল: ভাগ্য ফেরাতে অনেকেই লটারির টিকিট কাটেন। কিন্তু, সেই লটারির টিকিট আসল কি না, তা বুঝতে পারেন না। অনেক সময় জাল লটারির টিকিট চক্রের ফাঁদে পড়েন তাঁরা। পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমানায় তেমনই একটি বড়সড় জাল লটারি চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝাড়খণ্ডের চিরকুন্ডা থানার পুলিশ নিরসা মহকুমার অন্তর্গত বিসিসিএলের একটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে অভিযান চালায়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একটি বেআইনি মিনি লটারি প্রিন্টিং প্রেসের হদিস পাওয়া গিয়েছে।
অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ভুয়ো ‘ঝাড়খণ্ড লটারি’র টিকিট, আধুনিক প্রিন্টিং মেশিনারি এবং প্যাকেজিং সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের অনুমোদিত লটারির নাম হুবহু নকল করে এই জাল টিকিটগুলি ছাপা হত। এরপর চিরকুন্ডা থেকে সীমানা পার করে আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বরাকর, কুলটি, ডিসেরগড় ও নিয়ামতপুর সহ সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হত। এর ফলে একদিকে যেমন লটারি কেনার নামে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছিলেন। অন্যদিকে রাজ্য সরকারও বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছিল। এই আন্তঃরাজ্য প্রতারণা চক্রের মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করতে চিরকুন্ডা থানার পুলিশ তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করেছে।
ধৃত ব্যক্তি দাবি করছেন, তিনি কিছু জানেন না। তবে তাঁকে জেরা করে প্রেস মালিক ও মূল মাথাদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। তাদের স্পষ্ট বার্তা, আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বরাকর, কুলটি, ডিসেরগড় ও নিয়ামতপুর সহ সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষকে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে এবং এই বেআইনি নেটওয়ার্ক মূল থেকে উপড়ে ফেলতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।