
দুর্গাপুর: তৃণমূল জমানায় পাণ্ডবেশ্বরে সন্ত্রাস, তোলাবাজি ও হুমকির পরিবেশ ছিল। এই অভিযোগ তুলে তখন বারে বারেই সরব হত বিজেপি। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এবং পাণ্ডবেশ্বরে আবারও শিল্পের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এমনই দাবি করলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। এবার সেই পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে পাণ্ডবেশ্বরে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ছোট শিল্পের হাব তৈরি করতে উদ্যোগী হলেন তিনি। শিল্পপতিদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর শিল্প কনক্লেভের আয়োজন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক দাবি করেন, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবেশের পরিবর্তন হয়েছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং হাওড়ার মতো জেলায় একের পর এক শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। এবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরেও সেই বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একসময় পাণ্ডবেশ্বরে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা ও সংশয় থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে বলে দাবি বিধায়কের। এখন শিল্পপতিদের জন্য নিরাপদ ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। তোলাবাজি, হুমকি কিংবা রাজনৈতিক চাপের পরিবেশ নেই। ফলে নতুন করে শিল্পোদ্যোগীরা এই এলাকায় বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এই লক্ষ্যেই আগামী ২৭ তারিখ পাণ্ডবেশ্বরে শিল্প কনক্লেভের আয়োজন করা হচ্ছে।
এদিন একটি ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে রাজ্যের শিল্পপতিদের কাছে বিশেষ আহ্বান জানান বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। মূলত যাঁরা পাণ্ডবেশ্বর অঞ্চলে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ছোট শিল্প স্থাপনে আগ্রহী, তাঁদের ওই কনক্লেভে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই শিল্প কনক্লেভকে ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বিভিন্ন বণিকসভার প্রতিনিধি, উখড়া চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি দুর্গাপুর ও পাণ্ডবেশ্বরের একাধিক শিল্পোদ্যোগী উপস্থিত ছিলেন। শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনা, সরকারি সহযোগিতা, পরিকাঠামো, জমি এবং বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।
কী বলছেন শিল্পোদ্যোগীরা?
উখড়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মনোজ শরাফ বলেন, “আগের সরকারের তুলনায় বর্তমানে রাজ্যে অনেক বেশি শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নতুন করে শিল্পপতিরাও বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন।” তবে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। উত্তর প্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ ও ছত্তীসগঢ়ের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে শিল্প স্থাপনের জন্য সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা রয়েছে। একই ধরনের ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গেও কার্যকর করার জন্য রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাঁর মতে, একাধিক সরকারি দফতরে ঘোরার পরিবর্তে যদি একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্পপতিরা দ্রুত অনুমোদন পান, তাহলে রাজ্যে বিনিয়োগ আরও বাড়বে।
শিল্পোদ্যোগী পার্থ ঘোষ জানান, পাণ্ডবেশ্বর অঞ্চলে ইতিমধ্যেই একাধিক শিল্পোদ্যোগী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী দিনে শিল্পের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো এবং সরকারি সহযোগিতা পাওয়া গেলে আরও বেশি বিনিয়োগকারী এই এলাকায় আসতে পারেন বলে আশা শিল্প মহলের।
কী বার্তা দিলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক?
অন্যদিকে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে জমি কিংবা মাটির নিচে থাকা কয়লা খনি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যাতে কোনও সংশয় না থাকে, সেই আশ্বাসও দিয়েছেন বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তাঁর দাবি, শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে জমি বা ভূগর্ভস্থ কয়লা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে যাতে কোনও শিল্পোদ্যোগী সমস্যায় না পড়েন, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, “পাণ্ডবেশ্বরে শিল্পের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগের তুলনায় পাণ্ডবেশ্বর বদলে গিয়েছে। আমরা সেই জন্য এরকম সম্মেলন করছি। উদ্যোগপতিদের আহ্বান করছি। আগামী দিনে পাণ্ডবেশ্বরে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ছোট শিল্পের হাব তৈরি হবে। সেই জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে, আমরাও পাশে রয়েছি।”