Asansol Death Case: ভোট হিংসার বলি হননি দেবদীপ, আসানসোলে খুনের ঘটনায় দাবি পুলিশের

এমনকী, কমপ্লেক্সের সাধারণ বাসিন্দারাও জানিয়েছেন যে, দেবদীপ কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই অভিযোগ প্রথমেই অস্বীকার করা হয়েছিল। পুলিশ বর্তমানে হাউজিং কমপ্লেক্সের নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।

Asansol Death Case: ভোট হিংসার বলি হননি দেবদীপ, আসানসোলে খুনের ঘটনায় দাবি পুলিশের
গ্রেফতার তিনImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Apr 26, 2026 | 11:13 AM

আসানসোল: প্রথমে মনে করা হচ্ছিল রাজনৈতিক হিংসার বলি। তবে পুলিশ সেই অভিযোগ অস্বীকার করল। শুক্রবার রাতে আসানসোল দক্ষিণ (Asansol Daksin) থানার অন্তর্গত নব অনন্যা হাউজিং কমপ্লেক্সের বাসিন্দা দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশি তদন্তে স্পষ্ট করা হয়,ঘটনাটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিবাদ থেকে ঘটেছে। এর সঙ্গে নির্বাচন বা রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।

​ঠিক কী ঘটেছিল?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে দেবদীপ একটি অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে সপরিবারে ফিরছিলেন। পথে ভগৎ সিং মোড়ের কাছে গাড়ি পার্কিং নিয়ে তাঁর বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্তরা তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে। এরপর পাঁচপুলিয়ার কাছে আরও একজন মোটরবাইক চালকের সঙ্গে বচসা হয়। সেখানেও হাতাহাতি হয়। এরপর তিনি কমপ্লেক্সের সামনে পৌঁছলে অভিযুক্তরা পুনরায় তাঁর পেছন পেছন যান। তাঁর ওপর চড়াও হয়। তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। স্ত্রী পুত্রের সামনেই মারধর করা হয়। সেই সময় তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়ে যান।
দেবদীপের পরিবার প্রথমে ভেবেছিল আঘাত গুরুতর নয়। তাই তাঁরা তাঁকে ঘরেই চিকিৎসা করান। পরের দিন দুপুর পর্যন্ত তাঁর জ্ঞান না ফেরায় তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের সনাক্ত করে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, ​এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করে মোট তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ​গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রবিউল আলম ও শুভজিৎ মণ্ডল অন্যতম।
​সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে এবং বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

​ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শুরুতে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হলেও, পুলিশি তদন্তে তা খারিজ হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, আসানসোল উত্তরের প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতন্ডির (শঙ্খু) নাম নেওয়ায় বা ভোট সংক্রান্ত আক্রোশে এই হামলা হয়েছে। তবে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, ​গ্রেফতার হওয়া বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ যোগ নেই। ​নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া রিপোর্টে পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনও রাজনৈতিক সংঘাত নয় বরং ব্যক্তিগত বচসা থেকেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।

এমনকী, কমপ্লেক্সের সাধারণ বাসিন্দারাও জানিয়েছেন যে, দেবদীপ কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই অভিযোগ প্রথমেই অস্বীকার করা হয়েছিল। পুলিশ বর্তমানে হাউজিং কমপ্লেক্সের নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। কারণ ঘটনার সময় তাঁরা আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাঁচাতে গেট খোলেননি বলে অভিযোগ। আজ দেবদ্বীপ চ্যাটার্জীর দেহ ময়না তদন্ত হবে আসানসোল জেলা হাসপাতালে।

 

Follow Us