
কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)-কে মারার ছক? বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেফতার কাশ্মীরের জঙ্গি হামিদ মন্ডল। জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Muhammad) জঙ্গি হামিদ মন্ডল। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকবছর ধরেই বাংলায় থাকছিল এই হামিল সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর জঙ্গি এই হামিদ।
সূত্রের খবর, ধৃত হামিদের কাছে পাওয়া গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি, সূচি, ভিআইপি মুভমেন্টের সমস্ত নথি পাওয়া গিয়েছে। তবে কি মুখ্যমন্ত্রীকে হামলার ছক ছিল জইশ গোষ্ঠীর এই জঙ্গির? আরও এমন কিছু বিস্ফোরক তথ্য পাওয়া গিয়েছে, যা নিয়ে এখনও তদন্তকারী অফিসাররা মুখ খুলতে নারাজ।
সরকারের যাবতীয় গতিবিধি, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি, কোন গাড়িতে তিনি যাচ্ছেন, তিনি কখন গাড়িতে উঠবেন, গাড়ি কতদূর যাবে, গাড়ির চালক কে, কোথায় পার্কিং করা হবে,- এই সংক্রান্ত যাবতীয় গোপনীয় তথ্য ওই জঙ্গির হাতে ছিল।
এই জঙ্গি গ্রেফতারি যথেষ্ট উদ্বেগের, কারণ হামিল সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির যোগ রয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করে হামলার ছক গোয়েন্দাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। ভাট গোষ্ঠী কন্ট্রাক্ট কিলিং, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত।
জানা গিয়েছে, গতকাল সকালে সাড়ে আটটা নাগাদ বর্ধমান পুলিশ ও এসটিএফ অভিযান চালিয়ে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেফতার করে ওই জঙ্গিকে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া পিলখানার বাসিন্দা ছিল হামিদ। একটি গেঞ্জির কারখানায় কাজ করতো। দুই মাস আগে বর্ধমান গিয়েছিল। পাকিস্তান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছিল। আইএসআই (ISI) হ্যান্ডলার হিসাবে কাজ করছিল। নিয়মিত যোগাযোগ ছিল পাক গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামির পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন বিগত দুই-তিন মাস ধরে। স্বামী -স্ত্রী, দুই ছেলে ও মেয়ে থাকতেন একসঙ্গে। হামিরকে বাসিন্দারা কেউ তেমন একটা দেখেননি। তবে পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন এনএসজি কম্যান্ডার দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “রাজ্যে সরকার বদলের পর পুলিশের মাইন্ডসেট বদলেছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে। তাদের কাজ আরও ভালো হয়েছে। এই জঙ্গিরা ওভার দ্য গ্রাউন্ড সমর্থন পেয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে যেমন তাদের সাপোর্ট ভাঙা হয়েছে। আমাদের এখানেও তাই করতে হবে।”