
পাঁশকুড়া: ছিল মাটির বাড়ি। পৌরপ্রধান হওয়ার পর সেই বাড়িই ভেঙে হল রীতিমতো রাজপ্রাসাদ। আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ কি পেয়েছিলেন পাঁশকুড়া পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপ্রধান নন্দ মিশ্র? বিজেপি আর সিপিএম বলছে, এই আশ্চর্য প্রদীপ হল তোলাবাজি, আবাস যোজনার কাটমানি। তবে এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিলেন না প্রাক্তন পৌরপ্রধান নন্দ মিশ্র। তাঁর দাবি, কোনও দুর্নীতি করেননি তিনি। নিজের ও পুত্রের কষ্টার্জিত টাকাতেই বাড়ি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ২০১৭ সালে পাঁশকুড়া পৌরসভার পৌরপ্রধান নির্বাচিত হন নন্দ মিশ্র। সেই সময় তাঁর মাটির বাড়ি ছিল। পৌরপ্রধান হওয়ার পরই উল্কার গতিতে উত্থান শুরু হয় নন্দ মিশ্রের। মাটির বাড়ি ভেঙে তৈরি করেন সুসজ্জিত বাংলো বাড়ি। বাড়ির নাম প্রেরণা। বারান্দায় কাচ-সহ বাড়িতে দামি পাথর বসানো হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য।
কী বলছে সিপিএম ও বিজেপি?
কীভাবে বদলে গেল নন্দ মিশ্রের আর্থিক অবস্থা? বামেদের অভিযোগ, আবাস যোজনা, তোলাবাজি, কাটমানি, সরকারি জমি বিক্রি- সব কিছুতেই নাম জড়ায় প্রাক্তন পৌরপ্রধান নন্দ মিশ্রের। সিপিআইএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি বলেন, “আগে কী বাড়ি ছিল, আর তৃণমূলের জমানার পরে কী বাড়ি হয়েছে বা সম্পত্তি হয়েছে, সেটা মানুষ পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে। পুরোটাই তৃণমূলের প্রভাব খাটিয়ে হয়েছে। আবাস যোজনার কাটমানি, তোলাবাজি এসব করেই সম্পত্তি করেছেন।”
অন্যদিকে, বিজেপির পাঁশকুড়া নগর মণ্ডল সভাপতি সুকুমার ভুঁইয়া বলেন, “তৃণমূল মানেই কাটমানি। এই ক্ষেত্রেও তাঁর ব্যতিক্রম হয়নি। বর্তমানে পৌরসভার প্রশাসক দুর্নীতির তদন্ত করছেন। দুর্নীতিতে দোষী সাব্যস্ত হবেই।”
কী বলছেন প্রাক্তন পৌরপ্রধান নন্দ মিশ্র?
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে পাঁশকুড়া পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপ্রধান নন্দ মিশ্র ফোনে বলেন, “আমি যদি কারও পয়সায় চা খেয়ে থাকি, যদি সেটা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে কান ধরে উঠবস করব। বিরোধীরা বিরোধিতা করবেই। আমি এলআইসি এজেন্ট, আমার ছেলে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার, সেই পয়সা থেকেই বাড়ি করেছি। বিরোধীদের ভিত্তিহীন অভিযোগ।” বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের প্রভাব খাটিয়ে নন্দ মিশ্রের ছেলে সমবায় ব্যাঙ্কের ম্যানেজার হয়েছেন। সবমিলিয়ে রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের নেতাদের বৈভবের ছবি সামনে আসছে।