
ক্যানিং: সরকারিভাবে খাতায়-কলমে আবাস যোজনার টাকা অ্যাকাউন্টে এসেছে। কিন্তু একটি টাকাও উপভোক্তা হাতে পাননি। উধাও হয়ে গিছে আবাসের টাকা। উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে না গিয়ে কোথায় গেল সেই টাকা? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে। অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তর অঙ্গদবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গির লস্কর। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১১ জুন স্থানীয় বিএলও এবং ব্লক দফতরের দু’জন আধিকারিক তাঁর বাড়িতে আসেন। এরপর আধিকারিকরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, আবাস যোজনার সরকারি টাকায় তিনি ঘর তৈরি করেছেন কি না। আধিকারিকরা স্পষ্ট জানান যে, জাহাঙ্গিরের নামে ইতিমধ্যে ঘর বরাদ্দ হয়েছে এবং সরকারি খাতা অনুযায়ী সেই টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলেও গিয়েছে। এই কথা শুনেই আকাশ থেকে পড়েন পেশায় দিনমজুর জাহাঙ্গির। তিনি জানান, তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনও টাকাই ঢোকেনি। তদন্তে জানা যায়, উপভোক্তার অজান্তেই তাঁর নথি ব্যবহার করে অন্য কোনও ভুয়ো অ্যাকাউন্টে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
কী বলছেন জাহাঙ্গির লস্কর?
জাহাঙ্গির বলেন, “আমার নামে যে ঘর এসেছিল, তা আমি জানতাম না। আমাদের পার্টের বিএলও, পঞ্চায়েত আধিকারিক, বিডিও অফিসের আধিকারিক আমার কাছে কাছে এসে বললেন, আপনার নামে আবাসের টাকা ঢুকেছে, আপনি ঘর করেননি কেন? ওঁরা বললেন, আপনার প্রথম কিস্তির টাকা ঢুকেছে। আমি ব্যাঙ্কে গিয়ে দেখলাম, আমার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি।” এরপরই তৃণমূলকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, তৃণমূলের ভূতেরাই আমার টাকা খেয়েছে। পঞ্চায়েত এখন আমাকে বলছে, গ্রাম সদস্যের কাছে যান। গ্রাম সদস্য বলছেন, আমি কী করে বলব।” বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রশংসা করে জাহাঙ্গির বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এসেছে বলে তদন্তের পর জানতে পারলাম। এরকম কতজনের আবাসের টাকা খেয়েছে তৃণমূলের ভূতেরা কে জানে।”
কী বলছে বিজেপি?
এই ঘটনার পিছনে স্থানীয় শাসকদল তৃণমূলের একাংশের যোগসাজশ রয়েছে বলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। ‘তৃণমূলের ভূতে’ই গরিব মানুষের আবাসের টাকা গায়েব করেছে বলে এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপি নেতা অর্পণ দাস বলেন, “এমন কোনও দুর্নীতি নেই, যার সঙ্গে তৃণমূল জড়িত ছিল না। এখন তা প্রমাণিত। এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। প্রশাসন এর যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। যেসব আধিকারিক এর সঙ্গে জড়িত, তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনা হবে।”
নিজের হকের টাকা ফিরে পেতে এবং এই দুর্নীতির তদন্তের দাবিতে শেষ পর্যন্ত ক্যানিং থানার দ্বারস্থ হয়েছেন প্রতারিত জাহাঙ্গির লস্কর। তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের তরফে এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।