
বারুইপুর: নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনে জড়িতদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারের পর গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায়ও কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই যুবককে নির্দোষ বলে মন্তব্য করে গতকাল তাঁর পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল বারুইপুর জেলা পুলিশ। গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টার পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হল।
কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ?
গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের নিরাপত্তায় মঙ্গলবার রাত থেকেই এক জন সাব-ইন্সপেক্টরের তত্ত্বাবধানে ছয় জন কনস্টেবল পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতি শিফটে দুই জন কনস্টেবল মোতায়েন থাকবেন নিহত যুবকের বাবা-মার নিরাপত্তায়। নতুন করে যাতে কোনও হামলার মুখে না পড়ে নিহত যুবকের পরিবার, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।
রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর ওই যুবককে বেধড়ক মারধর করা হয়। পাশাপাশি তাঁর বাড়িতে ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার বারুইপুর এসপি অফিসে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিহত যুবক ‘ইনোসেন্ট’ এবং প্রকৃত দোষীদের কঠোর শাস্তি হবে। এরপরই নিহত যুবকের পরিবারের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টার পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হল।
নিহত যুবকের বাড়ির সামনে পুলিশি প্রহরা
গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর নিহত যুবকের বাবা বলেছিলেন, তাঁর ছেলে অটো চালাতেন। নির্যাতনের ঘটনায় যাঁরা গ্রেফতার হয়েছে, তাঁদের চিনতেন তাঁর ছেলে। মুখ চেনা সকলের। বাড়ি থেকে ছেলেকে তুলে নিয়ে জানিয়ে মৃত যুবকের বাবা বলেন, “ওরা যখন এসে খোঁজ করেছিল, সেই সময় আমি বলেছিলাম কী হয়েছে ভাই আমায় বলো। আমি সেই সময় বলেওছিলাম আমার ছেলে যদি কিছু করে আর তার প্রমাণ থাকে আমি নিজে হাতে আমার সন্তানকে তুলে দেব। এটা শুনে যা ঝামেলা করল, বাধ্য হয়ে ছেলেকে বললাম যা বাবা কী কথা বলে শুনে আয়। যেই না গিয়েছে, শেষ।”