
বারুইপুর: ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের কারণ কী? জোরকদমে তদন্ত করছেন তদন্তকারীরা। আর এই তদন্ত করতে গিয়েই উঠে আসছে আরও একটি সম্ভাবনার কথা। নারী পাচার। বারুইপুর কাণ্ডের সঙ্গে নারী পাচারের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা ভাবাচ্ছে পুলিশকে। আর নারী পাচার সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করতে এবার তড়িঘড়ি বারুইপুর থানায় ডেকে পাঠানো হল ইন্সপেক্টর কাকলি ঘোষ কুণ্ডুকে।
কে এই কাকলি ঘোষ কুণ্ডু? কেনই বা তাঁকে ডেকে পাঠানো হল বারুইপুর থানায়? আসলে কাকলি ঘোষ কুণ্ডু বারুইপুর এলাকায় মহিলা পাচার সংক্রান্ত কেস দেখতেন। বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন এই এলাকায় মহিলা থানার ওসি ছিলেন। বারুইপুর এলাকা থেকে কুলতলি-সুন্দরবন হয়ে সহজেই বাংলাদেশ চলে যাওয়া যায়। অনেকগুলি এমন কেসের সমাধান করেছেন এই ডাকাবুকো অফিসার।
সূর্যপুরের ঘটনায় কোনও নারী পাচার যোগ আছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই অফিসারকে আনা হয়েছে বলে খবর। আগামিকাল এলাকায় যাবেন কাকলি ঘোষ কুণ্ডু। সাধারণের সঙ্গে কথা বলবেন। পাশাপাশি ধৃতদের সঙ্গে কথা বলে পাচার সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করবেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
জানা গিয়েছে, ১৯৯৮ সালের ১৪ এপ্রিল কাকলি ঘোষ কুণ্ডু পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। হাওড়ার শিবপুর পুলিশ লাইন ও স্বামী বিবেকানন্দ স্টেট পুলিশ অ্যাকাডেমিতে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষে তিনি মূলত বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার পাশাপাশি তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিশেষ কাজ করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তাঁর কাজের মধ্যে নারী ও শিশু সুরক্ষা, পাচার রোধ এবং মানবকল্যাণ মূলক উদ্যোগ প্রধান। ‘মেয়ে পুলিশের ডায়ের’ নামে বইও লিখেছেন। এখন বারুইপুরকাণ্ডে নারী পাচার যোগ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই তাঁর উপরই ভরসা করছেন তদন্তকারীরা।