
ক্যানিং: রাজ্যে পালাবদলের পর বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ‘ডিম থেরাপি’ চলছে। সেজন্য পুলিশ তৃণমূল নেতাদের হেলমেট পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, সেই হেলমেট পরেও রেহাই পেলেন না দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের এক দাপুটে তৃণমূল নেতা। পুলিশের ঘেরাটোপের মধ্যেও তাঁর হেলমেট খুলে ডিম ছোড়া হল। শুধু তাই নয়, উত্তেজিত জনতার কিল, ঘুষিও খেতে হল তৃণমূল ওই নেতাকে। শেষপর্যন্ত পুলিশ ওই তৃণমূল নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
গতকাল গণরোষের মুখে পড়েন ক্যানিংয়ের দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধানের স্বামী তথা এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গোপাল কুণ্ডু। তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। খবর পেয়ে আসে পুলিশ। গোপাল কুণ্ডুকে মাথায় হেলমেট পরিয়ে থানায় নিয়ে যেতে চায় পুলিশ। তখনই উত্তেজিত জনতা দাবি জানায়, হেলমেট খুলিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এরই মধ্যে একজন গোপাল কুণ্ডুর মাথা থেকে হেলমেট খুলে নেন। পুলিশ তৃণমূল নেতাকে নিয়ে যেতে চাইলে শুরু হয় ডিম ছোড়া। কেউ কেউ গোবরও ছোড়েন। আবার পুলিশের ঘেরাটোপের মধ্যেই তৃণমূল নেতাকে ঘুষি, কিল মারা হয়। কোনওরকমে গোপাল কুণ্ডুকে নিয়ে গাড়িতে তুলে রওনা দেয় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই গোপাল কুণ্ডু। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, ভোট পরবর্তী হিংসার সময়ে এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিলেন তিনি। বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীর বাড়ি ভাঙচুর এবং মারধরের ঘটনার পিছনেও এই গোপাল কুণ্ডুর সরাসরি হাত ছিল বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিনের সেই জমে থাকা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে এদিন।