
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নেপালে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন তিনি। সে ছক ব্যর্থ করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। সোমবার নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে জাহাঙ্গির খানকে। তিনি একদা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডান হাত হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। আর এই দাপটেই তিনি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের বিধানসভা কেন্দ্র ফলতায় এতদিন একচ্ছত্র রাজ চালিয়েছিলেন। তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন ফলতাবাসী। জাহাঙ্গিরকে মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবার আদালতে এসিজেএম আরিফ আহমেদের এজলাসে পেশ করা হয়। কিন্তু জাহাঙ্গিরের হয়ে আদালতে সওয়াল করতে চাইলেন না কোনও আইনজীবী।
মঙ্গলবার দুপুর ২টো ৩৪ মিনিট নাগাদ ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতের এজলাসে নিয়ে আসা হয় জাহাঙ্গির খানকে। আদালত কক্ষে ঢোকার সময় থেকেই চোখেমুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট ছিল জাহাঙ্গিরের। এজলাস জুড়ে ভিড় আইনজীবীদের। পুলিশের তরফ থেকে ১৪ দিনের হেফাজতের আবেদন করা হয়েছিল ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
বিচারক জাহাঙ্গীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনার উকিল বাবু নেই, কেন জানেন?” জাহাঙ্গির উত্তর দেন, ‘জানি না।’ বিচারক তখন প্রশ্ন করেন, “কেন অ্যারেস্ট করা হয়েছে জানেন? কেন জানেন না? আপনার বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে চাইছে আপনাকে। আপনার কোনও বক্তব্য?” জাহাঙ্গির উত্তর দেন, ‘না স্যর’।
এদিন জাহাঙ্গিরকে আদালতে পেশ করার সময় থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল। এলাকায় মানুষের ক্ষোভ এতটাই তীব্র ছিল, প্রশাসন কোনও রকমের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে একেবারে ভোরবেলায় আদালতে নিয়ে আসা হয়। সূত্রের খবর, ভোট চারটে নাগাদ আলো ফোটার আগেই কোর্ট লক-আপে পেশ করা হয়।