
ঝড়খালি: ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে মৃত্যু হল প্রায় ১৩ বছর বয়সি এক বাঘিনীর। সোমবার সকালে আচমকাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তার। বনকর্মীরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় বাঘিনীর। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তার দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় বন দফতর।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সুন্দরবনের চুলকাটি জঙ্গল থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাঘিনীটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। বেশ কয়েকদিন ধরে জঙ্গলের আশপাশে তাকে অসুস্থ অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও সমস্যা হচ্ছিল তার। বিষয়টি বনকর্মীদের নজরে আসার পর উদ্ধার হয়।
আলিপুর চিড়িয়াখানায় প্রায় চার মাস ধরে চলে বাঘিনীটির চিকিৎসা। চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞদের নজরদারিতে রাখা হয় তাকে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। এরপর গত বছরের মার্চ নাগাদ তাকে ফের ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই শুরু হয় তার পরবর্তী পরিচর্যা।
দীর্ঘ চিকিৎসার পরও চিকিৎসায় সাড়া দেয়নি বাঘিনীটি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়। বাঘিনীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে শোকের আবহ তৈরি হয়। কারণ, গত বছরও এই কেন্দ্রে একটি বাঘের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানে ঝড়খালি কেন্দ্রে একটি বাঘ এবং একটি বাঘিনী ছিল। সেই বাঘিনীটিরও মৃত্যু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বনকর্মীদের মধ্যে।
এই নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন বিভাগের ডিএফও নিশা গোস্বামী বলেন, “২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় চুলকাটির জঙ্গল থেকে বাঘিনীটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। চিকিৎসার পর ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভালোই ছিল। সোমবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।”