
ঝড়খালি: ১২ দিনের দীর্ঘ লড়াই। অবশেষে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানল সুন্দরবন ওয়াইল্ড অ্যানিমাল পার্কের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ, পুরুষ বাঘ ‘সুন্দর’। শনিবার ভোর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝড়খালির এই ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাঘটির মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ১৬ বছর।
পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, বিগত ১২ দিন ধরে তীব্র সংক্রমণজনিত অসুস্থতায় ভুগছিল সুন্দর। বন দফতরের বিশেষ চিকিৎসক দলের কড়া নজরদারিতে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ও লড়াই ব্যর্থ করে দিয়ে এদিন ভোরে চিরঘুমে চলে যায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটি। সুন্দরের এই আকস্মিক বিদায়ের খবরে পার্কের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরপর দুই বাঘের মৃত্যু, খাঁচা এখন খালি-
সুন্দরের এই মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বড়সড় ধাক্কা খেল ঝড়খালি ওয়াইল্ড অ্যানিমাল পার্ক। মাত্র ১১ দিন আগে, গত ১১ অগস্ট এই কেন্দ্রের একমাত্র ১৩ বছর বয়সি বাঘিনী মৃত্যু হয়েছিল। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও চিকিৎসায় সাড়া দেয়নি বাঘিনীটি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়। তার ঠিক পরেই এদিন মারা গেল ‘সুন্দর’।
এই কেন্দ্রে মূলত এই দুটি বাঘই অবশিষ্ট ছিল। পরপর তাদের মৃত্যুর ফলে পার্কের বাঘের খাঁচা বা এনক্লোজার এখন সম্পূর্ণ বাঘ-শূন্য হয়ে পড়েছে। এত কম সময়ের ব্যবধানে দুটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বন দফতর এবং বন্যপ্রাণী প্রেমীদের মধ্যে। বন দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়ম মেনে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পরেই বাঘটির মৃত্যুর সঠিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ জানা সম্ভব হবে।