
চোপড়া: বৃহস্পতিবার সকালে ফের চোপড়ার চেতনাগছে যেতে দেখা গেল রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের প্রতিনিধিদের। কথা বলেন স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিএসএফের সঙ্গেও। কথা বলেন স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও। শিশু সুরক্ষা কমিশনের দাবি, নিজেদের দোষ কবুল করে নিয়েছে বিএসএফ। এমনকী নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে শিশু সুরক্ষা কমিশনের তরফে।
প্রসঙ্গত, ইন্দো বাংলাদেশ সীমান্তে দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চেতনাগছ এলাকায় মাটি চাপা পড়ে চার শিশুর মৃত্যুর খবর ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাপানউতোরও হয় রাজনৈতিক মহলে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তরফে এলাকায় একটি হাইড্রেন কাটার কাজ চলছিল। সেখানেই ধস নেমে এই বিপত্তি। ধসে চাপা পড়ে চার শিশু। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে চোপড়ার দলুয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
এদিন চোপড়া থেকেই শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন তুলিকা রায় বলেন, ঘটনার সত্যতা জানার জন্য আমরা এসেছিলাম। গ্রামবাসী, স্বজনহারা পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএসএফের কর্তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলতে পেরেছি। কলকাতায় বসে আমরা যেটা আন্দাজ করেছিলাম সেটাই এখন সত্য হিসাবে আমাদের কাছে এল।” তাঁর দাবি, ভয়ঙ্কর একটা গাফিলতি হয়েছে। বিএসএফের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, “যেখানে ওনারা কাজ করছেন তার ৫০ মিটারের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা বাস করছেন। আমরা কড়া ভাষায় ওনাদের জানিয়েছি এটা চলবে না। শুধু চোপড়া নয়, বাংলার যে কোনও জায়গায় বিএসএফের কোনও কাজ হয় তবে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের রক্ষার দায়িত্ব বিএসএফের। যে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করার কথা ছিল সেটা ওনারা নেননি। এটা ওনারাই স্বীকার করে নিয়েছেন। ওনারা দ্রুত সাবধানতা অবলম্বন করে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরাও ওনাদের বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। ওনারা শুনেছেন।”