
বেজিং: জেনারেল ঝাও জোংকি। গালওয়ান সংঘাতের সময় এই নামটা বারে-বারে শোনা গিয়েছিল। সেই সময় পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কম্যান্ডের চিফ কম্যান্ডিং অফিসার ছিলেন জেনারেল জোংকি। তাইওয়ানের সংবাদমাধ্যম প্রথম অভিযোগ করেছিল, জোংকির নির্দেশেই ভারতীয় সেনার উপর হামলা হয়। তারা যে ভুল বলেনি, এবার তা সামনে এল। জোংকি কবে, কেন তাঁর নেতৃত্বাধীন ইউনিটকে ভারতের উপর হামলার নির্দেশ দেন, সবটাই এখন প্রকাশ্যে এসেছে।
২০২০ সালের জুনে গালওয়ান সংঘর্ষের পর ওই সেনাকর্তার প্রোমোশন হয়। পাঁচ দিন আগে আচমকাই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। তখন বোঝা যায়নি, এটা সবে শুরু। গত ৫ দিনে ৮ জন শীর্ষ পিএলএ অফিসারকে বরখাস্ত করেছে পিএলএ-র সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি। গুপি-বাঘা দু’জনে বলে গিয়েছিলেন, যে যত বড়লোক, তার ভয় তত বেশি। ডাকাইতের ভয়ে রেতে ঘুম নাই। শাসকের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা সত্যি। যার প্রতাপ যত বেশি, তাঁর গদি হারানো, প্রাণ হারানোর ভয় তত বেশি।
হিটলার, স্টালিনের কথা সবার জানা। গত একশো বছরে কয়েক হাজার এই ধরনের শাসক দেখেছে দুনিয়া। কিন্তু শি জিনপিংয়ের তো গদি হারানোর ভয় নেই। চিনের সংবিধান এবং সেনা আইন জিনপিং এমনভাবে পাল্টে দিয়েছেন যে বাকি জীবনটা প্রেসিডেন্ট হয়েই থাকবেন। তা হলে জিনপিং সর্বত্র খাঁড়ার ঘা দিচ্ছেন কেন? মন্ত্রীরা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে, সেনাকর্তারা বরখাস্ত হচ্ছেন। যাঁদের পদ যাচ্ছে, তাঁদের আর খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি, বিদেশি শক্তির ভয় পাচ্ছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। জিনপিংয়ের মনে হয়েছে, তাঁর দেশ সব পশ্চিমী দুনিয়ার গুপ্তচরে ভরে যাচ্ছে। দেশের খবর বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই তিনি নিদান দিয়েছেন যে পার্টি, সরকার এবং দেশের যে কোনও বড় প্রতিষ্ঠান – আদালত, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, কোথাও কেউ কোনও বড় পদে থাকতে পারবেন না। যদি তাঁর স্বামী-স্ত্রী-সন্তানদের মধ্যে একজনও বিদেশে থাকেন। আর এই কারণেই এখন সরকারি আমলা, অর্থনীতিবিদ এমনকি চিনের স্কলারদেরও চাকরি নট হয়ে যাচ্ছে। তারপর, পিছনে খোঁচড় লাগিয়ে রাখা তো আছেই। চাকরি যদি নাও যায় তাহলে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকার ও পার্টির ঘনিষ্ঠ মুখেরাও রেহাই পাচ্ছেন না। গতবছরই নির্দেশ জারি হয়ে যায়। নতুন বছরে ঘাড়ধাক্কাটা জোরকদমে শুরু হয়েছে বলে রিপোর্ট দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।
ভয় পেয়ে চিনে এখন অনেকে তাড়াতাড়ি স্বামী-স্ত্রী-সন্তানদের বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনছেন। অনেকে আবার ভাবছেন আমিই না হয় পাকাপাকিভাবে বিদেশে পরিবারের কাছে চলে গিয়ে থিতু হই। আগে কিন্তু এমনটা ছিল না। দেশের মানুষের একটা অংশ বিদেশে উচ্চপদে চাকরি করলে বা অন্য কোনওভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে তাতে চিন সরকার খুশিই হত। এঁদের মাধ্যমেই চিন সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিত তার সফ্ট পাওয়ার। জিনপিং তাঁর কলমের খোঁচায় নিয়ম বদলে দিলেন। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, আগামিদিনে চিনে এরকম নানা জিনিস আরও দেখা যাবে।