
টরন্টো: ‘মানবতার সেবা করেই বিশ্বগুরু হয়েছে ভারত। কানাডার টরন্টোয় ‘হিন্দু বিশ্ব বন্ধু-বন্ধুত্ব দিয়ে বিশ্বকে গ্রহণ করুন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এমনই বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল ভারতের সভ্যতা, মানবতার সেবা, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর আদর্শ। বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বার্তাও দেন তিনি।
কানাডার টরন্টোয় আয়োজিত ‘HINDU VISHWA BANDHU: Embrace the World with Friendship’ নামক অনুষ্ঠানে দেশের দশটি প্রদেশ থেকে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে CHORD (Canadian Hindus for Outreach, Relations and Dialogue)। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭৫টিরও বেশি সংগঠন এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছে। ‘বসুধৈব কুটুম্বকম- গোটা বিশ্ব একটি পরিবার’, হিন্দু সভ্যতার এই প্রাচীন আদর্শকে কেন্দ্র করেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আলোচনা, সম্প্রীতি এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তা ছিলেন RSS প্রধান মোহন ভাগবত। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চরিত্র গঠন, সামাজিক সম্প্রীতি, সেবামূলক কাজ, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা এবং সমাজকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন কানাডার প্রাক্তন ফেডারেল ক্যাবিনেট মন্ত্রী জেসন কেনি। কানাডার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি ভারত-কানাডা সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কাশ্মীর সিং ধালিওয়াল। তিনি খালসা দিওয়ান সোসাইটি এবং ঐতিহাসিক রস স্ট্রিট গুরুদ্বারের প্রতিনিধিত্ব করেন। আয়োজকদের মতে, তাঁর উপস্থিতি কানাডায় হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন,”কেউ ভারতকে মহাশক্তি বলতে পারেন, কিন্তু ভারত তেমন ছিল না। ভারত বিশ্বের সেবা করেছে এবং নিজের স্বভাবের কারণেই বিশ্বগুরু হয়েছে, মহাশক্তি নয়।” তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে সঙ্কট দেখা দিলে এবং ভারতের কাছে সাহায্য চাওয়া হলে ভারত কখনও মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। এমনকী, সাহায্য না চাইলেও ভারত পাশে দাঁড়িয়েছে। ভাগবতের কথায়, “এটাই আমাদের পরম্পরা। এটাই ভারতের DNA।”
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ইতিহাসের একাধিক ঘটনার কথাও তুলে ধরেন RSS প্রধান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোল্যান্ডের শরণার্থীদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি। ভাগবত বলেন,”সেই সময় ভারত ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকলেও স্বাধীন দেশীয় রাজ্য জামনগরের মহারাজা পোলিশ শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। তাঁদের দেশ ফের বসবাসের উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি।
মোহন ভাগবত বলেন,”বাহ্যিকভাবে মানুষের শরীর, আকার, বর্ণ ও চেহারায় পার্থক্য থাকলেও আসলে সবাই এক। সেই কারণেই অন্যের সেবা করা মানুষের কর্তব্য। তাঁর কথায়, “সবকিছুই ঐশ্বরিক। তাই প্রত্যেকের সম্মান ও গুরুত্ব সমান। ভৌতিক জগতে প্রত্যেকে আলাদা হলেও আসলে সবাই এক। তাই অন্যের সেবা করা আমাদের কর্তব্য।”
CHORD অর্থাৎ Canadian Hindus for Outreach, Relations and Dialogue। এর লক্ষ্য হল কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃহত্তর কানাডা সমাজের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক ও আলোচনার পরিসর তৈরি করা। সংগঠনটি কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্য ও অবদানকে মূলধারার আলোচনায় তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়, ধর্ম, প্রতিষ্ঠান এবং প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর লক্ষ্যেও কাজ করে।