
ওয়াশিংটন: এয়ার ফোর্স ওয়ান নয়। গোপনে তুরস্কে অন্য বিমানে উঠেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েকদিন ধরে এই নিয়ে জল্পনা বাড়ছিল। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন স্বয়ং ট্রাম্প। তুরস্কে বিমান বদলানোর কথা স্বীকার করলেন। একইসঙ্গে জানালেন, কেন তিনি বিমান বদলেছিলেন। বললেন, “আপনারা জানেন না, আমার উপর অনেক হুমকি রয়েছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) স্বীকার করেছেন, সম্প্রতি তুরস্কে একটি শীর্ষ সম্মেলনের সময় নিরাপত্তাজনিত ‘হুমকি’র কারণে তাঁকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, সিক্রেট সার্ভিস এবং মার্কিন সেনাবাহিনী তাঁকে যা করতে বলে, তিনি সেটাই করেন। ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি এমন সময় এল, যখন মাত্র এক দিন আগেই তাঁর বিমান বদলের খবর সামনে এসেছিল। জানা গিয়েছিল, কাতারের উপহার দেওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমান থেকে প্রথমে তাঁকে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গোপনে আরও একবার বিমান বদলে তাঁকে ছোট C-32A বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
গত মাসে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, হুমকির কারণে কাতারের দেওয়া নতুন বিমানটি বদলে পুরনো বোয়িং বিমানে উঠেছিলেন ট্রাম্প। তবে সম্প্রতি ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এরপর আরও একবার বিমান বদল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে তাঁকে গোপনে একটি ক্যাটারিং কন্টেনারের মাধ্যমে বের করে ছোট C-32A বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিমান বদল নিয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা ট্রাম্পের তরফে এতদিন কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এবার সেই ঘটনা নিজেই নিশ্চিত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওহাইও থেকে ফেরার পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি সিক্রেট সার্ভিস এবং সেনাবাহিনীর পরামর্শ মেনে চলি। তাঁরা চেয়েছিলেন আমি অন্য একটি ফ্লাইট, অন্য একটি বিমানে যাই। আমি তাঁদের কথাই মেনে চলি। মনে হয়, সেখানে কোনও হুমকি ছিল। আমি বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি কিছু জানতে চাইনি। আমার উপর অনেক হুমকি রয়েছে।” ট্রাম্প আরও বলেন, এমন অনেক হুমকি রয়েছে, যার কথা সাধারণ মানুষ জানেন না। তাঁর দাবি, “যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্টের উপর অনেক হুমকি থাকে।” তিনি আরও বলেন, “যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ নন, তাঁদের হুমকি দেওয়া হয় না। আর আমি মনে করি, সম্ভবত আমিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট।”
হুমকি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোনও কিছু নিয়েই চিন্তিত নন। তাঁর কথায়, “যাই হোক না কেন, আপনারা জানেন আমার মনোভাব কী? যা হওয়ার হবে।”
ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার বিমান বদলের বিষয়টি এতদিন কিছু মার্কিন আধিকারিক এবং সংবাদমাধ্যমের কাছেও অজানা ছিল। তাঁদের ধারণা ছিল, ট্রাম্প তখনও পুরনো বোয়িং ৭৪৭ বিমানের মধ্যেই রয়েছেন। তুরস্ক থেকে পুরনো বিমানে ফেরার সময় বিমানে থাকা সাংবাদিকদেরও জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল বলে খবর। বিমান বদলের পুরো প্রক্রিয়াটি এতটাই গোপনে করা হয়েছিল যে, ট্রাম্প ব্রিটেন যাওয়ার জন্য ছোট C-32A বিমানে উঠলেও ব্রিটেনে পৌঁছনোর পর তাঁকে আবার পুরনো বড় বোয়িং ৭৪৭ বিমান থেকেই নামতে দেখা যায়। ছোট বিমান থেকে কখন বা কীভাবে তিনি ফের পুরনো বিমানে উঠলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।