
নয়া দিল্লি: আধার (Aadhaar) ব্যবস্থাকে এবার দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা UIDAI। বিশেষ করে অনাবাসী ভারতীয় (NRI) এবং প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে আধারের সুবিধা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। ইউআইডিএআই-এর সিইও সৌরভ বিজয় জানিয়েছেন, আধারের পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে।
গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট ২০২৬-এর আলোচনায় আধার সংস্থার সিইও বলেন, “আধারের ক্ষেত্রে এখন আমাদের লক্ষ্য হল এটিকে আন্তর্জাতিক করে তোলা। বিশেষ করে বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে আধারের সংযোগ আরও সহজ করার বিষয়ে আমরা কাজ করতে চাই। ইতিমধ্যেই কয়েকটি পিওসি নিয়ে কাজ চলছে।”
সিইও-র দাবি, আধারকে আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে আইনি কাঠামোতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দিকে এগোনো হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য আধারের সুবিধা আরও সহজলভ্য করার নীতি নিয়ে কাজ করছে ইউআইডিএআই। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ ভারতে আরও বিনিয়োগ আনতেও সাহায্য করতে পারে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট থাকা এনআরআই বা অনাবাসী ভারতীয়দের আধারের জন্য আবেদন করতে ভারতে টানা ১৮২ দিন বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয় না। তাঁরা ভারতে আসার পরই আধারের জন্য আবেদন করতে পারেন।
তবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া এখনও অনলাইনে করা যায় না। বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের জন্য আবেদনকারীকে ভারতে কোনও অনুমোদিত আধার এনরোলমেন্ট সেন্টারে উপস্থিত থাকতে হয়।
প্রবাসী ভারতীয়দের ক্ষেত্রে নিয়ম তুলনামূলকভাবে কঠিন। আধারের নিয়মে বর্তমানে তাঁদের রেসিডেন্ট ফরেইন ন্যাশনাল-এর সঙ্গে একই শ্রেণিতে রাখা হয়। ফলে আধারের জন্য আবেদন করার ঠিক আগের ১২ মাসের মধ্যে অন্তত ১৮২ দিন ভারতে বসবাস করতে হয়।
এই শর্ত পূরণ হলে বৈধ ওসিআই কার্ড, বিদেশি পাসপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় ভারতীয় ঠিকানার প্রমাণ-সহ নির্দিষ্ট নথি জমা দিয়ে আধারের জন্য আবেদন করা যায়। এক্ষেত্রেও এনরোলমেন্টের জন্য নিজেকে উপস্থিত থাকতে হবে।
UIDAI-এর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে OCI-দের জন্য এই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নতুন ব্যবস্থা কবে থেকে চালু হবে বা ঠিক কীভাবে আবেদন করা যাবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত ঘোষণা হয়নি।
এদিকে আধার সংক্রান্ত প্রতারণা রুখতে এআই-এর ব্যবহারও ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছে UIDAI। সংস্থার চেয়ারম্যান নীলকান্ত মিশ্র জানিয়েছেন, প্রতারকরা যত নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে, UIDAI-ও প্রযুক্তির সাহায্যে ততই নিজেদের ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে।
তিনি আরও জানান, AI নিয়ে এত আলোচনা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই UIDAI মুখ এবং আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। অর্থাৎ বায়োমেট্রিক দেওয়ার সময় সত্যিই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত রয়েছেন কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।