
মুম্বই/দিল্লি: মাত্র দেড় মাস হয়েছে অ্যাপল ভারতে তাদের প্রথম দুই রিটেইল স্টোর খুলেছে ৷ প্রথমটি ১৮ এপ্রিল মুম্বইয়ে এবং দ্বিতীয়টি ২০ এপ্রিল দিল্লিতে। দেড় মাসের মধ্যেই এই বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থা এমন কীর্তি অর্জন করল, যা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক্স সংস্থা এখনও করে দেখাতে পারেনি। বিক্রয়ের নিরিখে, টিম কুকের সংস্থার এই দুই দোকানই এখন ভারতের বৃহত্তম ইলেকট্রনিক্স রিটেইল স্টোর। আইফোন প্রস্তুতকারকদের প্রথম দুই দোকানের প্রত্যেকটিই প্রথম মাসে ২২ থেকে ২৫ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। দীপাবলির সময় বাদ দিলে দেশের যে কোনও ইলেকট্রনিক্স রিটেইল স্টোরের সর্বোচ্চ যে আয় হয়, এই দুটি দোকান প্রথম মাসে তার দ্বিগুণেরও বেশি আয় করেছে।
মুম্বইয়ের বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্সে জিও ওয়ার্ল্ড ড্রাইভের অ্যাপল স্টোরটির যা বিক্রি হয়েছে, তাতে এটি এখনই অ্যাপলের গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা সেরা ১০ দোকানের অন্যতম হয়ে উঠেছে। সংস্থার কর্তারা জানিয়েছেন, এই দোকানে প্রথম দিনই বিক্রি হয়েছিল ১০ কোটির টাকার বেশি! দেশের বড় মাপের ইলেকট্রনিক্স স্টোরগুলির সারা মাসে আয় হয় মেরেকেটে ৭-৮ কোটি টাকা। দীপাবলির সময় এই দোকানগুলিতে অনেক ছাড় দেওয়া হয়। সেই দিনেও, এই ধরনের বড় দোকানগুলিতে সর্বোচ্চ ৩-৫ কোটি টাকার বিক্রি হয় বলে জানা গিয়েছে।
নতুন দিল্লির সাকেতের সিলেক্ট সিটিওয়াক মলের অ্যাপলের যে দ্বিতীয় দোকানটি রয়েছে, সেটিতে আবার প্রতি বর্গফুট হিসেবে আয় বেশি হয়েছে। যেখানে বান্দ্রা কুরলার স্টোরটির পরিমাপ ২২,০০০ বর্গফুট, সেখানে সাকেতের দোকানটির মাপ ১০,০০০ বর্গফুটের মতো। অথচ, সাকেতের দোকানটিতেও বিক্রি হয়েছে বান্দ্রা কুরলার দোকানটির প্রায় সমান। দুটি দোকানেই প্রথম দিনে প্রায় ৬,০০০ করে মানুষের পা পড়েছিল।
এই বিপুল আয় অ্যাপলের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ অনুমানকেও ছাপিয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার কর্তারা। তাঁদের মতে, ভারতে সংস্থার দোকান দুটি সামগ্রিকভাবে এবং প্রতি বর্গফুট হিসেবে আয়ের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে। আর এর কারণ হিসেবে তাঁরা জানাচ্ছেন, অ্যাপলের পণ্যগুলির গড় বিক্রয় মূল্য অনেক বেশি। এর ফলে লাভ হয় অনেক বেশি। দুটি দোকানেই এখনও পর্যন্ত দারুণ ভিড় দেখা যাচ্ছে। এই কারণেই আয়ের ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়ছে তারা।