
নয়া দিল্লি: সরকারি চাকরিতে অবসরের পর মেলে পেনশন (Pension)। তবে সকলে তো আর সরকারি চাকরি করেন না। দেশের বহু মানুষ বেসরকারি চাকরি করেন। অনেকেই আবার দিনমজুর, শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন। দেশের এই অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের বার্ধক্যকালে আর্থিক সুরক্ষা দিতে কেন্দ্র সরকার চালু করছে এক বিশেষ স্কিম- অটল পেনশন যোজনা (Atal Pension Yojana)। বর্তমানে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এই প্রকল্পে নির্দিষ্ট সময় ধরে বিনিয়োগ করলে ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি মাসে সর্বাধিক ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া যায়।
এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীকে—
কেন্দ্র সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২২ বা তার পর থেকে যারা আয়করদাতা (Income Tax Payer) হয়েছেন বা আয়কর প্রদান করেছেন, তারা অটল পেনশন যোজনায় নতুন করে যোগ দিতে পারবেন না।
অটল পেনশন যোজনায় নাম নথিভুক্ত করতে হলে-
প্রথমে নিজের ব্যাঙ্কে গিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
আবেদনকারীর কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।
এরপর পেনশন পরিকল্পনা ও মাসিক প্রিমিয়ামের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।
তারপর থেকে প্রতি মাসে নির্ধারিত প্রিমিয়ামের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে।
এই প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ভর করে আবেদনকারীর বয়স এবং তিনি কত টাকার মাসিক পেনশন নিতে চান তার উপর। সাধারণভাবে কমপক্ষে ২০ বছর পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে হয়।
উদাহরণ হিসাবে, যদি ১৮ বছর বয়সে কেউ এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করা শুরু করেন এবং ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে পেনশন পেতে চান, তাহলে তাঁকে মাসে ২১০ টাকা করে জমা দিতে হবে।
অন্যদিকে, ৩০ বছর বয়সে একই পরিমাণ পেনশন পেতে হলে মাসে ৫৭৭ টাকা প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের মাধ্যমে অবসর জীবনে নিয়মিত আয়ের সুযোগ করে দেওয়াই অটল পেনশন যোজনার মূল উদ্দেশ্য।