
নয়া দিল্লি: বাড়িতে সোনা-গহনা বা টাকা রাখতে অনেকেই ভরসা করেন না চুরি হওয়ার ভয়ে। সেক্ষেত্রে নিরাপদ বলে মনে করেন ব্যাঙ্কের লকার (Bank Locker)। এই লকারে যাবতীয় মূল্যবান সম্পদ রেখে, তার চাবি গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই চাবি যত্ন করে রাখতে হয়। তবে অনেক সময় অসাবধানতাবশত ব্যাঙ্কের লকারের চাবি হারিয়ে যেতে পারে।এই লকারের চাবি হারিয়ে গেলে কী করবেন? লকারের চাবি হারিয়ে ফেলার জন্য কি জরিমানা দিতে হয়?
যদি কেউ ব্যাঙ্ক লকারের চাবি হারিয়ে ফেলেন, তাহলে সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে এবং ম্যানেজারকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাতে হবে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা হিসাবে থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করা উচিত। সময়মতো ব্যাঙ্ক-কে লকারের চাবি চুরি বা হারিয়ে যাওয়ার কথা জানানো জরুরি, যাতে অন্য কেউ লকার থেকে টাকা বা সোনা-দানা না চুরি যায়। ব্যাঙ্ক-কে জানালে সঙ্গে সঙ্গে সেই লকারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের যেকোনও লকারের জন্য দুটি ভিন্ন চাবি থাকে। এর মধ্যে একটি হল ‘মাস্টার কি’, যা সবসময় ব্যাঙ্কের কাছে রাখা হয়, এবং অন্যটি গ্রাহককে দেওয়া হয়। এই দুটি চাবি সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর কোনও ডুপ্লিকেট চাবি নেই। লকার খোলার জন্য সবসময় এই দুটি চাবিই একসঙ্গে প্রয়োজন হয়। যদি গ্রাহক তার চাবি হারিয়ে ফেলেন, তবে ব্যাঙ্কের কাছে সেই লকার খোলার বিকল্প চাবি থাকে না।
চাবি হারিয়ে যাওয়ার কথা জানালে ব্যাঙ্ক প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র ও ফর্মে গ্রাহকের স্বাক্ষর নেয় এবং তারপরেই নতুন চাবির অর্ডার দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করে।
চাবি হারিয়ে গেলে, ব্যাঙ্ক নতুন চাবি তৈরি করতে বা লকারটি খোলার জন্য লকার প্রস্তুতকারক কোম্পানির টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেয়। এই প্রক্রিয়ার অধীনে, লকারটি নিরাপদে ভাঙা হয় এবং একটি নতুন তালা লাগিয়ে নতুন চাবি দেওয়া হয়। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি গ্রাহকের সামনেই করা হয়, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, লকার ভাঙতে বা নতুন তালা ও চাবি তৈরি করতে যা খরচ হয়, তা সম্পূর্ণরূপে গ্রাহককেই বহন করতে হয়। এই খরচের পরিমাণ ব্যাঙ্কের নীতি এবং লকারের আকারের উপর নির্ভর করে।