
নয়া দিল্লি: কর্মচারীদের সামাজিক সুরক্ষা আরও বাড়াতে বড় সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government)। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF)ও এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (EPS)-এ মাসিক বেতনের সীমা ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে এখনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার(Cabinet Ministry) অনুমোদন প্রয়োজন।
এখনও পর্যন্ত যাঁদের মাসিক বেসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা বা তার কম, তাঁদের জন্য EPF ও EPS-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে যাঁদের বেসিক বেতন ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত, এবার থেকে সেই কর্মীরাও বাধ্যতামূলক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় চলে আসবেন। ফলে, বেসরকারি ক্ষেত্রে আরও বহু কর্মী প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পেনশনের সুবিধা পাবেন।
সূত্রের খবর, প্রথমে এই সীমা ৩০ হাজার টাকা করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রক ২৫ হাজার টাকার অনুমোদন করেছে। এবার সেই প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পেশ করা হবে।
EPS-এ বর্তমানে নিয়োগকর্তা কর্মীর বেসিক বেতনের ৮.৩৩ শতাংশ এবং কেন্দ্র সরকার ১.১৬ শতাংশ অবদান দেয়। ফলে নতুন কর্মীরা যুক্ত হলে সরকারের আর্থিক ব্যয়ও বাড়বে।
উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে EPS-এর জন্য ১১,১৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বর্তমানে কুড়ি বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে EPF ও EPS বাধ্যতামূলক। ছোট সংস্থাগুলি চাইলে স্বেচ্ছায় এই প্রকল্পে যোগ দিতে পারে, তবে তাদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়। এই পরিবর্তন মূলত সংগঠিত বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা পৃথক পেনশন ব্যবস্থার আওতায় থাকায় EPS-এর অন্তর্ভুক্ত নন।
মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলেও নিয়মটি তৎক্ষণাৎ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, সংস্থাগুলিকে তাদের পে-রোল ব্যবস্থা ও কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে সময় লাগবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে নতুন বেতনসীমা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে EPF-এর বেতনসীমা সংশোধন করে ৬,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা করা হয়েছিল।