
নয়া দিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ কেটেছে। যদিও, এখনও পুরোপুরি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়নি। তবে, ট্রাম্প (Donald Trump) জানিয়েছেন, শুক্রবারই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে। এই আবহে বাজার চাঙ্গা হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। কিন্তু এরই মধ্যে ডিজ়েলের রফতানি শুল্ক (Windfall gains tax on exports of Diesel) বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার। শুধু ডিজ়েল নয় এটিএফ জ্বালানিতেও (ATF Fuel) শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।
মূলত, রফতানির উপর উইন্ডফল গেইনস ট্যাক্স বা অতিরিক্ত মুনাফা কর বাড়ানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডিজ়েল রফতানি সংস্থাগুলি অতিরিক্ত মুনাফা পাচ্ছিল। সেই কারণেই শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। তবে পেট্রোল রফতানির উপর বর্তমান শুল্কের হার অপরিবর্তিত রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আজ অর্থাৎ ১৬ জুন থেকে নতুন দর কার্যকর হচ্ছে। ডিজেল রফতানিতে বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক (SAED) প্রতি লিটারে ১৩.৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে, ATF রফতানির উপর SAED প্রতি লিটারে ৯.৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২.৫ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, পেট্রোল রফতানির উপর শুল্কের হার প্রতি লিটারে ১.৫ টাকাই রয়েছে। পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রে পেট্রোল ও ডিজেলের উপর করের হারেও কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর যৌথভাবে হামলা চালায় ইজ়রায়েল ও আমেরিকা। কড়া জবাব দেয় ইরানও। পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করে তেহরান। এরপর শুরু হয় হরমুজ় অবরোধ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে গত ২৬ মার্চ ডিজেল ও ATF রফতানির উপর উইন্ডফল ট্যাক্স চালু করে কেন্দ্র। পরে ১৬ মে পেট্রোল রফতানির উপরও এই কর আরোপ করা হয়।
সরকারের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে যাতে রফতানিকারকরা অতিরিক্ত মুনাফা না করতে পারেন এবং দেশীয় বাজারে জ্বালানির ঘাটতি তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই কর ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংকটের জেরে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়, তার প্রভাব থেকে দেশীয় বাজারকে সুরক্ষিত রাখতেই কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ।