
নয়া দিল্লি: ইরান-আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হতেই ফল মিলল হাতেনাতে। বিরাট পতন ক্রুড তেলের (Crude Oil) দামে। ইরান যুদ্ধের সময় ক্রুড তেলের দাম ব্য়ারেল প্রতি ১২৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল এক সময়ে। এখন যুদ্ধ থামতেই ক্রুড তেলের দাম লিটার প্রতি ৮০ ডলারের নীচে নেমে এল। মার্চের পর এই প্রথম ক্রুড তেলের দামে (Crude Oil Price Fall) এত বড়সড় পতন হল। তাহলে কি ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দামও (Petrol-Diesel Price) কমবে?
ইরান-আমেরিকার যুদ্ধের জেরে গোটা বিশ্বেই জ্বালানি ও তেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। ভারতকেও এই ধাক্কা সহ্য করতে হয়েছে। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়ায় ভারতকেও বেশি দামে তেল ও জ্বালানি কিনতে হয়েছে। বিরাট ক্ষতির মুখে পড়েছে অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি। সেখানেই যুদ্ধ থামার পরে পতন হতে শুরু করেছে ক্রুড তেলের দামেও। আজ ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামে ৫.৪ শতাংশ পতন হয়েছে। এখন দাম নেমে দাড়িয়েছে ৭৮.৬৬ ডলার প্রতি ব্যারেলে। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর আগে ক্রুড তেলের দাম যেরকম ছিল, সেই স্তরেই ফিরে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম কমতেই সবার মনে যে প্রশ্নটা উঠে এসেছে, তা হল ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দামও কি কমবে? যুদ্ধের জেরেই দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দাম ধাপে ধাপে লিটার প্রতি সাড়ে সাত টাকা বেড়েছিল। তবে কি ক্রুড তেলের দাম কমায়, পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমবে? উত্তরটা হল, না। আপাতত পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। তার কারণ যুদ্ধের জেরে অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা রাতারাতি পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। বিগত কয়েক সপ্তাহেও বিপুল ক্ষতি হয়েছে। এখনও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির ভার বয়ে চলেছে অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি।
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারও এই ক্ষতির বোঝা বয়ে চলেছে। বিধানসভা ভোটের আগেই পেট্রোল-ডিজেলের উপরে আবগারি শুল্ক লিটার প্রতি ১০ টাকা করে কমিয়েছিল। এবার ক্রুড তেলের দাম কমায় সরকারও আগে নিজেদের ক্ষতিপূরণ করার চেষ্টা করবে। তবে যদি একটানা ক্রুড তেলের দাম কমতে থাকে, তাহলে সরকারও দাম কমানোর ভাবনা-চিন্তা করতে পারে।