
নয়া দিল্লি: গ্রীষ্ম হোক বা বর্ষা, প্রতিটি বাড়িতে সিলিং ফ্যান চলে দিনভর। তবে ঋতু অনুযায়ী সেই ফ্যানের স্পিড কমে বা বাড়ে। ফ্যানের স্পিড কমালে বা বাড়ালে বিদ্য়ুৎ সাশ্রয় হয়? অনেকের মনেই এই প্রশ্ন জাগে। সত্যি কি স্পিড কমালে বিদ্যুতের খরচ কমে?
পুরনো রেগুলেটর-
অতীতে বাড়িতে বড় রেগুলেটর ব্যবহার করা হত। এই প্রযুক্তিতে ফ্যানের গতি কমানো হলে, রেগুলেটর বিদ্যুৎকে তাপে রূপান্তরিত করে মোটরে যাওয়া ভোল্টেজ কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ ফ্যানের স্পিড ৫-এ থাকুক বা ১-এ, বিদ্যুৎ খরচ প্রায় একই থাকে। তাই পুরোনো রেগুলেটরযুক্ত ফ্যানের গতি কমালেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় না।
নতুন ফ্যান-
বর্তমানে বাজারে আসা আধুনিক ইলেকট্রনিক রেগুলেটরগুলি ক্যাপাসিটর বা ট্রায়াক ভিত্তিক প্রযুক্তিতে কাজ করে। এগুলি কোনও তাপ উৎপন্ন না করেই, সরাসরি মোটরে যাওয়া বৈদ্যুতিক প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ফ্যান কম স্পিডে চললে, বিদ্যুৎ খরচ কমে যায়। পুরোনো রেগুলেটরগুলির তুলনায় ইলেকট্রনিক রেগুলেটরগুলো প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে।
যারা বিদ্যুৎ বিল কমাতে চান, তাদের জন্য বিএলডিসি ফ্যান একটি দারুণ অপশন। সাধারণ ফ্যান ফুল স্পিডে চললে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। বিএলডিসি ফ্যান একটি অত্যাধুনিক মাইক্রোকন্ট্রোলার দ্বারা চালিত হয়। এগুলি ফুল স্পিডে চললেও মাত্র ২৮ থেকে ৩৫ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। এগুলি রিমোট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাই গতি ১ বা ২-এ নামিয়ে আনলে বিদ্যুৎ খরচ কমে মাত্র ৬ থেকে ১০ ওয়াটে নেমে আসে।
তবে শুধু গতি অর্ধেক করে দিলেই যে বিদ্যুৎ খরচ ঠিক ৫০ শতাংশ কমে যাবে, এমনটা নয়। বিদ্যুৎ সাশ্রয় নির্ভর করে কী ধরনের মোটর ব্যবহার করছেন, রেগুলেটরের ক্ষমতা এবং প্রতিদিন ফ্যানটি কত ঘণ্টা চলে- তার উপর।