
নয়া দিল্লি: সফল ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিক্ষোভ-আন্দোলনে উত্তাল হয়েছে রাজধানী দিল্লি। ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের জেরে, তাদের দাবি মতো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। ককরোচ জনতা পার্টির সাফল্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তৈরি হল নতুন একটা পার্টি। নাম E20 জনতা পার্টি (E20 Janta Party)। কী দাবি এদের?
পেট্রোলে ইথানল মেশানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক হচ্ছে। সেই বিতর্ক থেকেই জন্ম ই-২০ জনতা পার্টির। তাদের দাবি, জনগণের কাছে ১০০ শতাংশ ‘বিশুদ্ধ পেট্রোল’ কেনার সুযোগ থাকা উচিত। একইসঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করী (Nitin Gadkari)-র ইস্তফার দাবিও জানিয়েছে।
পরিবহন কর্মীরাও এই আন্দোলনকে সমর্থন করছেন। দিল্লি ট্যাক্সি অ্যান্ড ট্যুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ই২০ পেট্রোলের বিরুদ্ধে আগামী ৪ অগস্ট সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে। সংগঠনের দাবি, ইথানল মেশানোর নীতির কারণে পেট্রোলের মাইলেজ কমে যাচ্ছে। গাড়ি মেরামতের খরচ বেড়েছে। বিশেষ করে পুরোনো গাড়িগুলোতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাচ্ছে।
রবিবার ই২০ জনতা পার্টির ঘোষণা হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এক্স হ্যান্ডেলে এর ২৫ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার্স তৈরি হয়। এখন তাদের ফলোয়ার্সের সংখ্যা ২.৫৯ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
দলের বক্তব্য, তারা ভর্তুকি, বিনামূল্যে পেট্রোল-কোনওটাই চায় না। ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিষিদ্ধ করতেও চায় না। তাদের একমাত্র দাবি হল, জনগণকে যেন ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রোল কেনার সুযোগ দেওয়া হয়।
তাদের দাবি, জ্বালানির স্বচ্ছ লেবেলিং প্রয়োজন, যাতে ক্রেতারা জানতে পারেন তারা কী কিনছেন। জ্বালানি মিশ্রণের খরচ, সুবিধা ও প্রভাব সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি মাইলেজ, ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের ওপর স্বাধীন সমীক্ষা চালাতে হবে।
যদিও দেশে দীর্ঘদিন ধরেই ইথানল-মুক্ত ১০০-অক্টেন প্রিমিয়াম পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে, এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ফুয়েল স্টেশনে বিক্রি হয় এবং এর দাম প্রতি লিটার ১৬৯ টাকা, যেখানে সাধারণ E20 জ্বালানির দাম প্রতি লিটার ১০২.১২ টাকা। পেট্রোলিয়াম প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী গত সপ্তাহে সংসদে জানিয়েছেন যে, ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল গাড়ির কর্মক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে—এ বিষয়ে সরকার কোনও “প্রমাণ” মেলেনি।