
নয়া দিল্লি: আয়কর নিয়ে অনেক মানুষের মধ্যেই হাজারো প্রশ্ন-ধন্দ্ব রয়েছে। কত টাকা আয় হলে আয়কর জমা দিতে হবে, তা নিয়ে জিজ্ঞাসা থাকে। অনেকেই মনে করেন, বছরে আয় চার লক্ষ টাকার কম হলে বা কর (Tax) শূন্য হলে আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবে সবসময় এমন নয়। আয়কর আইনে শুধু আয়ের পরিমাণ নয়, নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেন এবং রিপোর্টিংয়ের ভিত্তিতেও আইটিআর (ITR) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
তাই কম বেতন পেলেও বা আয়করের সীমার নীচে থাকলেও, নিচের যেকোনও একটি শর্ত পূরণ হলে, আপনাকে আইটিআর (ITR) জমা দিতেই হবে।
আয় কম হলেও যদি কোনও আর্থিক বছরে আপনার এক বা একাধিক অ্যাকাউন্টে মোট এক কোটি টাকার বেশি জমা করেন, তাহলে আইটিআর (ITR) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া, এক বা একাধিক সেভিংস অ্যাকাউন্টে মোট ৫০ লক্ষ টাকার বেশি জমা করলেও, রিটার্ন ফাইল করতে হবে।
কোনও আর্থিক বছরে যদি আপনি নিজের বা অন্য কারও জন্য বিদেশ ভ্রমণে দুই লক্ষ টাকার বেশি খরচ করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে আইটিআর (ITR) জমা দিতে হবে। একইভাবে, বছরে বিদ্যুৎ বিল এক লক্ষ টাকার বেশি হলেও রিটার্ন ফাইল বাধ্যতামূলক।
শুধু চাকরিজীবীরাই নন, ব্যবসায়ী ও পেশাদারদের ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভার বা মোট প্রাপ্তি ৬০ লক্ষ টাকার বেশি হলে আইটিআর (ITR) জমা দিতে হবে। চিকিৎসক, পরামর্শদাতা (Consultant), ফ্রিল্যান্সার সহ অন্যান্য পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক পেশাগত আয় ১০ লক্ষ টাকার বেশি হলে রিটার্ন ফাইল করা বাধ্যতামূলক।
যদি কোনও আর্থিক বছরে আপনার মোট টিডিএস (TDS) বা টিসিএস (TCS) ২৫ হাজার টাকা বা তার বেশি হয়, তাহলে আইটিআর (ITR) জমা দিতে হবে। তবে প্রবীণ নাগরিকদের (Senior Citizens) ক্ষেত্রে এই সীমা ৫০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে।
ভারতের বাসিন্দা কোনও ব্যক্তির যদি বিদেশে সম্পত্তি থাকে বা বিদেশি সম্পদের সুবিধাভোগী হন বা বিদেশের কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অনুমতি (Signing Authority) থাকে, তাহলে আয় যতই কম হোক না কেন, আইটিআর জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এমনকী, বিদেশি সংস্থার ইএসওপি (ESOP)-এর মাধ্যমে শেয়ার থাকলেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
অনেক চাকরিজীবী মনে করেন, সেকশন ৮৭এ (Section 87A)-এর অধীনে কর ছাড় পাওয়ার ফলে কর শূন্য হয়ে গেলে আইটিআর জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এটি ভুল ধারণা।এই ধারায় শুধুমাত্র করের পরিমাণ কমায়, আইটিআর (ITR) জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেয় না।
এছাড়া অতিরিক্ত কাটা টিডিএস (TDS) ফেরত পেতে, আয়ের সরকারি রেকর্ড রাখতে এবং ব্যবসা বা মূলধনী ক্ষতির (Capital Loss) সুবিধা ভবিষ্যতের জন্য বহাল রাখতে আইটিআর জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।