
নয়া দিল্লি: লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডিমের দাম (Egg Price)। দেশের একাধিক জায়গায় ডিমের দাম পৌঁছে গিয়েছে ৯ টাকায়। কোথাও আবার ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭-৮ টাকায়। বাড়ছে মুরগির মাংসের (Chicken Price) দামও। কিন্তু, কী কারণে দাম বাড়ছে ডিম ও মাংসের? পোলট্রি শিল্পের দাবি, মুরগির খাবারের দাম বাড়ার কারণেই ডিমের দাম বাড়ছে। তবে, জুলাইয়ের শেষের দিকে দাম কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পোলট্রি সংস্থাগুলির দাবি, মুরগির খাদ্যে ব্যবহৃত ভুট্টা (মকাই), সয়াবিনের খোল এবং বিদেশ থেকে আমদানি হওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাবারের দাম অনেকটাই বেড়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আমদানি ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মার্চের পর থেকে মুরগির খাদ্যে ব্যবহৃত প্রায় সব উপাদানেরই দাম বেড়েছে।
মুরগির খাদ্যের প্রায় ৫৫ শতাংশই ভুট্টা থাকে। ভূটার দাম মার্চের পর থেকে ৩৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
খাদ্যের প্রায় ২২ শতাংশ থাকে সয়াবিন খোল, যার দাম ৬৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এছাড়া খাদ্যে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডের দাম মার্চের পর থেকে সাড়ে তিন গুণ বেড়ে গিয়েছে।
ভুট্টার চাহিদা এখন শুধু পোলট্রি শিল্পেই সীমাবদ্ধ নয়। ইথানল উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিও বিপুল পরিমাণ ভুট্টা কিনছে। ফলে বাজারে ভুট্টার দাম দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে, এ বছরের অনিয়মিত বর্ষা কৃষি উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সময়মতো এবং সমানভাবে বৃষ্টি না হওয়ায় খরিফ ও রবি ফসলের উৎপাদন কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত বছর দেশে সয়াবিন উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমেছিল। এ বছরও বর্ষা স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন আরও কমতে পারে, যার প্রভাব পড়বে দামের উপর।
চলতি বছরের জুন পর্যন্ত তীব্র গরমের কারণে শুধু ডিম নয়, মুরগির উৎপাদনও কমে যায়। ফলে বাজারে মুরগির মাংসের দাম বেড়েছে। শিল্পমহলের তথ্য অনুযায়ী, বহু শহরে খুচরো বাজারে মুরগির মাংসের দাম প্রতি কেজিতে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে।
জুলাইয়ের শেষ থেকে ডিমের দাম কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ উত্তর ভারতে শ্রাবণ মাসে ধর্মীয় কারণে অনেকেই ডিম ও মাংস খাওয়া কমিয়ে দেন। ফলে চাহিদা কমলে বাজারদরও কিছুটা কমতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বর্ষা স্বাভাবিক না হয় এবং ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলিতে ডিম ও মুরগির মাংসের দাম ফের বাড়তে পারে।