
কলকাতা: বাড়িতে এসি নেই, ফ্রিজ নেই, ওয়াশিং মেশিন নেই। শুধুমাত্র লাইট,পাখাতেই যেটুকু বিদ্যুত (Electricity Bill) খরচ, ওইটুকুই। কিন্তু, মাসের শেষে বিদ্যুত বিল আসছে প্রায় দ্বিগুণ। এই সমস্যা কি আপনারও হচ্ছে? এর পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। আর এই কারণগুলি সম্পর্কে অবগত থাকলেই বিদ্যুতের বিল আর বেশি আসবে না। কী কী কারণে বিল বেশি আসতে পারে, জেনে নিন
জানা গিয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত ডিজিটাল মিটার অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাড়ির ওয়্যারিংয়ে সামান্য সমস্যা থাকলেও তার প্রভাব পড়তে পারে মিটার রিডিংয়ে। বিশেষ করে আর্থিংয়ের সমস্যা থাকলে বিদ্যুৎ লিকেজ হতে পারে। সময়মতো সমস্যা চিহ্নিত না করলে বিদ্যুতের বিল বাড়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
ওয়্যারিং করার সময় নিউট্রাল তারটি ঠিকমতো কাজ না করলে, বিদ্যুৎ সরাসরি আর্থিং তারের মাধ্যমে মাটিতে চলে যাবে। এভাবে লিক হওয়া বিদ্যুৎকেও মিটার আপনার ব্যবহৃত বিদ্যুৎ হিসেবে রেকর্ড করবে। এর ফলে, আপনি ফ্যান বা লাইট ব্যবহার না করলেও মিটারের রিডিং বাড়তেই থাকবে। আপনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চেষ্টা করলেও কোনও লাভ হবে না। এই ধরনের ত্রুটি থাকলে বিদ্যুতের অপচয়ের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শক বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ফলে অস্বাভাবিক বেশি বিল এলে বাড়ির ওয়্যারিংও পরীক্ষা করা জরুরি।
কখনও কখনও ইলেকট্রিশিয়ানদের করা ছোটখাটো ভুলও সমস্যার কারণ হতে পারে। ওয়্যারিং করার সময় নিউট্রাল এবং আর্থিং তার একসঙ্গে যুক্ত হয়ে গেলে সমস্যা হতে পারে। এই ভুল সংযোগের কারণে শুধু শর্ট সার্কিটই হয় না, মিটারের কাঁটাও দ্বিগুণ গতিতে চলতে শুরু করে। এই নিউট্রাল লুপের কারণে, বিদ্যুৎ ব্যবহার না হলেও মিটার নিজে থেকেই চলতে থাকে।
প্রতি মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ বিল এলে প্রথমেই বাড়ির বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার খতিয়ে দেখুন। পাশাপাশি ওয়্যারিং, আর্থিং এবং কোনও যন্ত্রে বিদ্যুৎ লিক হচ্ছে কি না,তা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। মিটারের ত্রুটি রয়েছে, এমন কিছু সন্দেহ হলে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার কাছেও মিটার পরীক্ষার আবেদন করা যেতে পারে।
আপনার বাড়িতে মিটার সংক্রান্ত ত্রুটি আছে কিনা তা জানতে একটি সাধারণ পরীক্ষাই যথেষ্ট। আপনার বাড়ির বাইরে থাকা কারেন্ট মিটার বোর্ডে EL (আর্থ লিকেজ) লেখা আলো জ্বলছে কিনা তা মনোযোগ দিয়ে দেখুন। যদি আলো জ্বলে থাকে, তবে নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া হয় যে বিদ্যুত লিকেজ হচ্ছে।
আপনি আরও একটি সহজ পদ্ধতির মাধ্যমেও এই ওয়্যারিং ত্রুটি শনাক্ত করতে পারেন। আপনার বাড়ির মেইন সুইচ বা এমসিবি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে বাইরে যান এবং মিটারটি পরীক্ষা করুন। যদি বাড়িতে কোনও বিদ্যুৎ খরচ না হয় কিন্তু মিটারের রিডিং পরিবর্তিত হয় বা লাল আলো জ্বলতে-নিভতে থাকে, তাহলে আপনার ওয়্যারিং-এ কোনও সমস্যা রয়েছে। তবে তা দেখেই বিদ্যুৎ লিকেজ নিশ্চিত বলা যায় না। মিটারের ধরন অনুযায়ী ওই আলোর অর্থ আলাদা হতে পারে। সন্দেহ হলে বিদ্যুৎ সংস্থা বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ানের সাহায্য নিন।
আপনি যদি এমন কোনও সমস্যা লক্ষ্য করেন, তবে কোনও অবহেলা না করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনও দেরি না করে, একজন অভিজ্ঞ ইলেকট্রিশিয়ানকে ডেকে ওয়্যারিং সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা করিয়ে নিন। মেগার টেস্ট করার মাধ্যমে, আপনি নিউট্রাল এবং আর্থ তারের মধ্যেকার লিকেজগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারবেন।