30 Day LPG Reserve: তেলের বড় সঙ্কটের আশঙ্কা? হঠাৎ ৩০ দিনের ‘রিজার্ভ’ তৈরি করতে বলল কেন্দ্র

India LPG Stockpile: বেসরকারি জ্বালানি বিক্রেতাদের কাছ থেকে ডিজেল বিক্রি ৩৮ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির বাল্ক ডিজেল বিক্রিও ২৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির খুচরো পাম্পে বিক্রি হওয়া পেট্রোল ও ডিজেলের দাম এখনও উৎপাদন খরচের তুলনায় কম রাখা হয়েছে।

30 Day LPG Reserve: তেলের বড় সঙ্কটের আশঙ্কা? হঠাৎ ৩০ দিনের রিজার্ভ তৈরি করতে বলল কেন্দ্র
ফাইল চিত্র।Image Credit source: PTI

|

May 30, 2026 | 10:42 AM

নয়া দিল্লি: আলোচনা চলছেই। ইরান-আমেরিকার সংঘাত কবে থামবে, কেউ বলতে পারছেন না। পশ্চিম এশিয়ার  অস্থির পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহে ফের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে এলপিজি (LPG) মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন (Oil Marketing Company)-সংস্থাগুলিকে অন্তত ৩০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো এলপিজি মজুত বা রিজার্ভ (LPG Reserve) তৈরির নির্দেশ দেওয়া হল।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, দেশে তেলের ভাণ্ডার তৈরির প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা শুক্রবারই বলেন, “আমরা কৌশলগত মজুত (Strategic Reserve) তৈরির বিষয়ে কাজ করছি। তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে অন্তত ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রাখার পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে এবং তারা সেই কাজ করছে।”

কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL)-কে তাদের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক মজুতের অতিরিক্ত এলপিজি সংরক্ষণ ক্ষমতা গড়ে তুলতে বলেছে।

 ভারতের নির্ভরশীলতা

ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ, প্রাকৃতিক গ্যাসের ৬৫ শতাংশ এবং এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আসে। ইরান সঙ্কট শুরুর পর ভারত অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলেও, এলপিজি আমদানিতে বাধা পড়ছে। এই জন্য বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। সুজাতা শর্মা আরও জানিয়েছেন যে দেশের অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণের ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে। যদিও এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, দাবি কেন্দ্রের

কেন্দ্রের দাবি, বর্তমানে দেশে পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি, অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। পাশাপাশি দেশের রিফাইনারিগুলিও পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে। দৈনিক এলপিজি উৎপাদন প্রায় ৫২ হাজার টনে পৌঁছেছে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তর।

কেন হঠাৎ বেড়েছে জ্বালানি বিক্রি?

সুজাতা শর্মা এই বিষয়ে বলেছেন, “দেশের কোনও এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বহু পেট্রোল পাম্পে অস্বাভাবিক বিক্রি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”

তার মতে, কৃষিক্ষেত্রে চাহিদা বৃদ্ধি এবং দামের পার্থক্যের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত পাম্পগুলি থেকে জ্বালানি বিক্রি বেড়েছে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৫০টিরও বেশি জেলায় পেট্রোল বিক্রি ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি জেলায় বিক্রি দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। অন্যদিকে ১৫৬টি জেলায় ডিজেল বিক্রি ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং ৬টি জেলায় তা ১০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বেসরকারি সংস্থার বিক্রি কমেছে

সুজাতা শর্মা জানান, বেসরকারি জ্বালানি বিক্রেতাদের কাছ থেকে ডিজেল বিক্রি ৩৮ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির বাল্ক ডিজেল বিক্রিও ২৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির খুচরো পাম্পে বিক্রি হওয়া পেট্রোল ও ডিজেলের দাম এখনও উৎপাদন খরচের তুলনায় কম রাখা হয়েছে। তবে টেলিকম টাওয়ারের মতো গ্রাহকদের, যারা বিপুল পরিমাণে কেনেন, তাদের বাজারদরের ভিত্তিতে দাম দিতে হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থাগুলি তুলনামূলকভাবে বেশি হারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে।

ভারতে IOC, BPCL এবং HPCL ১৫ মে থেকে এখনও পর্যন্ত পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপিছু প্রায় ৭.৫০ টাকা বাড়িয়েছে।

মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে কড়া নজর

সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বিশেষ নজরদারি বাহিনী (Special Enforcement Squad) গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার স্পষ্ট করেছে, শুধুমাত্র অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই জ্বালানি কিনতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় মজুত করা উচিত নয়।

Follow Us