FSSAI: খাবারে চিনি বা নুনের মাত্রা বেশি? প্যাকেটে এই বিশেষ চিহ্ন দেখলেই সাবধান! নিয়মে আসতে পারে বড় বদল

FSSAI on Packaged Food: কোনও পণ্যে নির্ধারিত সীমার তুলনায় চিনি বেশি থাকলে প্যাকেটের সামনে স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে হাই সুগার। একইভাবে নুন বেশি থাকলে হাই সল্ট এবং ফ্যাট বেশি থাকলে হাই ফ্যাট লেখা থাকবে। এই সতর্কবার্তা প্যাকেটের সামনের অংশে এমনভাবে দিতে হবে যাতে সহজেই ক্রেতাদের নজরে পড়ে। সেইকারণে ওই বিশেষ চিহ্ন রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।  

FSSAI: খাবারে চিনি বা নুনের মাত্রা বেশি? প্যাকেটে এই বিশেষ চিহ্ন দেখলেই সাবধান! নিয়মে আসতে পারে বড় বদল
প্রতীকী ছবিImage Credit source: Tv9 Bangla

Aug 29, 2026 | 7:57 PM

নয়া দিল্লি: প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয়ের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের পথে কেন্দ্র। খাবারে যদি নির্ধারিত মাত্রার থেকে বেশি চিনি (Sugar), নুন (Salt) কিংবা ফ্যাট (Fat) থাকে, তাহলে প্যাকেটে একটা চিহ্ন দেখেই বোঝা যাবে। জানা গিয়েছে, প্যাকেটের সামনেই বড় লাল সতর্কীকরণ চিহ্ন থাকতে পারে। এমনই নতুন লেবেলিং ব্যবস্থার প্রস্তাব হলফনামা আকারে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জমা দিয়েছে দিয়েছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSAI)।

প্যাকেটের সামনে থাকবে লাল চিহ্ন

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্যাকেটজাত কোনও খাবারে চিনি, নুন কিংবা ফ্যাট নির্ধারিত সীমার থেকে বেশি থাকলে প্যাকেটের সামনের অংশে লাল রঙের ষড়ভুজ সতর্কীকরণ চিহ্ন দেওয়া হতে পারে। দেখতে অনেকটা ‘স্টপ সাইন’-এর মতো হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হল, কোনও পণ্য কেনার আগেই যাতে ক্রেতা সহজে বুঝতে পারেন, সেই খাবারে অতিরিক্ত চিনি, নুন বা ফ্যাট রয়েছে কি না।

কোনও পণ্যে নির্ধারিত সীমার তুলনায় চিনি বেশি থাকলে প্যাকেটের সামনে স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে হাই সুগার। একইভাবে নুন বেশি থাকলে হাই সল্ট এবং ফ্যাট বেশি থাকলে হাই ফ্যাট লেখা থাকবে। এই সতর্কবার্তা প্যাকেটের সামনের অংশে এমনভাবে দিতে হবে যাতে সহজেই ক্রেতাদের নজরে পড়ে। সেইকারণে ওই বিশেষ চিহ্ন রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

দুই ধাপে চালু হতে পারে নিয়ম

নতুন ব্যবস্থা দু’টি পর্যায়ে কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছে FSSAI। প্রথম পর্যায়ে কোনও প্যাকেটজাত খাবারে চিনি, নুন ও ফ্যাট, এই তিনটির মধ্যে অন্তত দু’টির পরিমাণ নির্ধারিত সীমার বেশি হলে লাল সতর্কীকরণ লেবেল দেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে নিয়ম আরও কড়া করার প্রস্তাব রয়েছে। সেক্ষেত্রে চিনি, নুন বা ফ্যাটের মধ্যে যে কোনও একটির পরিমাণ নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলেই প্যাকেটের সামনে লাল সতর্কীকরণ চিহ্ন দিতে হবে।

কেন এমন সিদ্ধান্তের ভাবনা?

প্যাকেটজাত খাবার এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের উপর তার প্রভাব নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই এই প্রস্তাব সামনে এসেছে। এক NGO-র দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানির সময় শিশুদের মধ্যে বাড়তে থাকা স্থূলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত প্রশ্ন তুলেছিল, কোনও খাবারে চিনি, নুন ও ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকলে সেই তথ্য প্যাকেটের সামনে স্পষ্টভাবে জানানো হয় না কেন? এরপরই FSSAI-র মাধ্যমে লেবেলিংয়ের নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ছাড় পেতে পারে কোন কোন খাবার?

তবে সমস্ত প্যাকেটজাত পণ্যের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য করার প্রস্তাব নেই। কয়েকটি ‘সিঙ্গল ইনগ্রেডিয়েন্ট’ বা একটিমাত্র উপাদান দিয়ে তৈরি পণ্যকে লেবেলিংয়ের নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঘি, তেল, নুন, চিনি, গুড়, মধু,

আপত্তি খাদ্য শিল্পের একাংশের

মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কমিশনার তুকারাম মুন্ডে খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে শুধু নিয়ম মেনে চলার পরিবর্তে ক্রেতাদের স্বাস্থ্যের প্রতিও আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, খাদ্য ও পানীয় শিল্পের একাংশ প্রস্তাবিত নিয়মের কয়েকটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বেশ কিছু পানীয় সংস্থা এই প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় ক্রেতারা এক নজরেই বুঝতে পারবেন কোনও পণ্যে চিনি, নুন কিংবা ফ্যাটের মাত্রা বেশি রয়েছে কি না। ফলে খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us