
নয়া দিল্লি: স্ত্রী ধন বলা হয় সোনা (Gold)-কে। সোনা গহনা শুধু নারীর সাজসজ্জারই অংশ নয়, তার পাশাপাশি বিপদের সময়ে ভরসা হয়ে দাঁড়ায় সোনা। তবে বর্তমান সময়ে সোনার যা দাম বেড়েছে, তাতে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তের সাধ্যের বাইরে চলে গিয়েছে সোনা। কবে তিন লাখের গণ্ডি পার করে যাবে সোনা, জানেন?
১৯৫৫ সালে ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল মাত্র ৭৯ টাকা। ১৯৬০ সালের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১১ টাকায়। ১৯৮০ সালের মধ্যে সোনার দাম আরও বেড়ে যায়। তখন ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল ১৩৩০ টাকা।
একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ ২০০০ সালে, ১০ গ্রাম সোনার দাম বেড়ে ৪,৪০০ টাকা হয়েছিল। ২০১০ সাল নাগাদ সোনার দাম বেড়ে ১৮,৫০০ টাকায় পৌঁছয়।
২০২০ সাল থেকে সোনার দাম নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২০ সালে ১০ গ্রামের দাম যেখানে ৪৮,৬৫১ টাকা ছিল, তা ২০২৪ সালে ৭৪,১০০ টাকা এবং ২০২৫ সালে ১.১৩ লক্ষ টাকায় পৌঁছয়। চলতি বছরে ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ৬০ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। গত ছয় বছরের সোনার দাম তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে মন্দার লক্ষণ, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং শেয়ার বাজারে তীব্র ওঠানামা দেখা দিলেই বিনিয়োগকারীরা সোনাকে সবথেকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসাবে বিবেচনা করেন। তখন সোনাতেই বিপুল বিনিয়োগ হয়। এর কারণে চড়চড়িয়ে সোনার দাম বাড়ে।
বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি বিপুল পরিমাণে সোনার রিজার্ভ জমা করছে। বর্তমান বাজারের গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে আর্থিক বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে আগামিদিনে সোনার দাম বছরে গড়ে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাড়তে থাকবে।
এই সমীকরণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালে ১০ গ্রাম খাঁটি সোনার দাম ২.২৫ লক্ষ থেকে ২.৮০ লক্ষ টাকা। আন্তর্জাতিক উত্তেজনা আরও বাড়লে, বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন যে সোনার দাম সহজেই ৩ লক্ষ টাকা পার করে ফেলবে। এভাবে দাম বাড়লে ভবিষ্যতে সোনার গয়না সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।