
প্রযুক্তির দুনিয়ায় এখন এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোর টক্কর। এই দৌড়ে নিজেদের আরও একধাপ এগিয়ে রাখতে গুগল তাদের এআই টুলে বড়সড় আপডেট আনল। ব্যবহারকারীদের কাছে পরিচিত ‘নোটবুক এলএম’ (NotebookLM) টুলের নাম বদলে রাখা হল ‘জেমিনি নোটবুক’ (Gemini Notebook)। শুধু নাম বদলই নয়, পেশাদার কাজ এবং শিক্ষাক্ষেত্রের কথা মাথায় রেখে এতে বেশ কিছু নতুন এআই টুল যোগ করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই পরিবর্তনগুলো ঠিক কী এবং কীভাবে কাজ করবে, চলুন দেখে নেওয়া যাক।
নোটবুক এলএম থেকে জেমিনি নোটবুক
২০২৩ সালে ‘প্রজেক্ট টেলউইন্ড’ নামে যে টুলটি শুরু হয়েছিল, আজ তা ৩ কোটিরও বেশি মানুষ ব্যবহার করেন। নাম বদলের সঙ্গে এতে যুক্ত হয়েছে ‘ক্লাউড কম্পিউটার’ ফিচার। এর মানে হল, প্রতিটি নোটবুকের নিজস্ব সুরক্ষিত ক্লাউড স্পেস থাকবে, যার সাহায্যে এটি নিজে থেকেই কোড রান করাতে বা জটিল ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারবে। বড় নোটকে দ্রুত অডিয়ো বা ভিডিয়ো সামারিতে বদলে ফেলতেও এটি সক্ষম। বর্তমানে এটি জেমিনি অ্যাপে থাকলেও, খুব শিগগিরই গুগল সার্চের ‘এআই মোড’-এর মধ্যেও চলে আসবে। ফলে সার্চ করার সঙ্গেই সরাসরি নোটবুক ব্যবহার করা যাবে।
পড়ুয়াদের জন্য ‘স্টাডি নোটবুক’
শিক্ষাক্ষেত্রে বড় আপডেট হিসেবে এসেছে ‘স্টাডি নোটবুক’ (Study Notebooks)। এখানে পড়ুয়ারা ক্লাসের পিডিএফ বা অন্যান্য নোট আপলোড করতে পারবেন। পড়ার আগে এই এআই একটি ছোট কুইজ নেবে। সেই উত্তরের উপর ভিত্তি করে এআই বুঝে নেবে পড়ুয়ার ঠিক কোনও কোনও জায়গায় দুর্বলতা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট রুটিন বা পাঠ্যক্রম তৈরি করে দেবে।
শিক্ষকদের জন্য সুবিধা
গুগল ক্লাসরুম ও জেমিনির সমন্বয়ে শিক্ষকরা এখন দ্রুত ক্লাসের কাজ ও রুটিন পরিচালনা করতে পারবেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে এআই-এর সাহায্যে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও তৈরি করা যাবে। গুগলের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, যেসব জায়গায় শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে এই ধরনের এআই টুল শিক্ষার মান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
আপাতত ‘গুগল এআই আল্ট্রা’ এবং নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্কস্পেস ব্যবহারকারীরা জেমিনি নোটবুকের নতুন ফিচারগুলো পাচ্ছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়েব প্ল্যাটফর্মে সমস্ত ‘প্রো’ ইউজারদের কাছে এই আপডেট পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে, স্টাডি নোটবুক ফিচারটি ধীরে ধীরে জেমিনি অ্যাপে ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হচ্ছে।