
প্রবাসী ভারতীয় হিসাবে দেশে বিনিয়োগ করবেন কীভাবে তা নিয়ে চিন্তায় থাকেন অনেকেই। উপায় বাতলে দিচ্ছেন সেবি সংশায়িত বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞা শমিতা সাহা। প্রবাসী ভারতীয় বা এনআরআই (NRI) হিসেবে দেশে বিনিয়োগের প্রথম ধাপ হলো রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস আপডেট করা। বিদেশে নির্দিষ্ট সময় কাটানোর পর ভারতীয় দূতাবাস থেকে এনআরআই সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে প্যান, আধার, ব্যাঙ্ক ও ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস আপডেট করতে হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বেছে নিতে হবে। দেশে উপার্জিত অর্থ জমানোর জন্য থাকছে NRO অ্যাকাউন্ট। পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রায় করমুক্ত সঞ্চয় বিদেশে পাঠানোর জন্য NRE অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া, সরাসরি বিদেশি মুদ্রায় ফিক্সড ডিপোজিটের জন্য FCNR (B) অ্যাকাউন্ট বেশ উপযোগী।
এনআরআই হওয়ার পর ভারতের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে চাইলে পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট স্কিমের (PIS) মাধ্যমে এনআরও বা এনআরই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট যুক্ত করতে হয়। তবে মনে রাখতে হবে প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য ইন্ট্রাডে ট্রেডিং এবং শর্ট সেলিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে, দেশে থাকাকালীন পিপিএফ (PPF) বা এনএসসি (NSC)-এর মতো সরকারি ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগ করা থাকলে তা আগের মতোই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু এনআরআই স্ট্যাটাস পাওয়ার পর নতুন করে এই ধরনের সঞ্চয় প্রকল্পে আর বিনিয়োগ করা যায় না।
ভারতের ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল সেন্টার বা গিফট সিটি (GIFT City) প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য মিউচুয়াল ফান্ড, এআইএফ এবং পিএমএস-এ বিদেশি মুদ্রায় সরাসরি বিনিয়োগের এক দারুণ সুযোগ করে দিয়েছে। যেখানে করের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু ছাড়ও মেলে। আয়করের নিয়ম অনুযায়ী, এনআরআই-দের কেবল ভারতেই উপার্জিত আয়ের উপর কর দিতে হয়। তাঁরা 87A ধারায় কোনও কর ছাড় পান না। তবে, একই আয়ের ওপর যাতে দেশে ও বিদেশে দু’বার কর (Double Taxation) না দিতে হয়, তার জন্য ভারত সরকারের ডিটিএএ (DTAA) চুক্তি রয়েছে। এই সুবিধা পেতে ট্যাক্স রেসিডেন্সি সার্টিফিকেটের (TRC) সঙ্গে আয়কর বিভাগে ‘Form 10F’ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
এবার প্রবাস জীবন কাটিয়ে পাকাপাকিভাবে দেশে ফিরে এলে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফিনান্সিয়াল ডকুমেন্টস এবং ব্যাঙ্কে নিজের স্ট্যাটাস ‘এনআরআই’ থেকে পুনরায় আপডেট করে ‘রেসিডেন্ট’ (Resident) করা অত্যন্ত জরুরি। এনআরআই বিনিয়োগ এবং কর সংক্রান্ত বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ বিনিয়োগের তুলনায় বেশ জটিল হয়। তাই নিজের কষ্টার্জিত অর্থকে সুরক্ষিত রাখতে এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত যে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সর্বদা কোনও সেবি (SEBI) নিবন্ধিত বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।