
নয়া দিল্লি: এখন এমন কোনও ব্য়ক্তি নেই, যার ব্য়াঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। বর্তমানে সকলেরই কম-বেশি অন্তত একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকে। সেই অ্যাকাউন্টে টাকা জমা এবং তোলা যায়। তবে আপনি কি জানেন, কখন ব্যাঙ্কে টাকা জমা বা ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার জন্য আয়কর দফতর নোটিস পাঠাতে পারে?
ব্যাঙ্কে টাকা তোলা বা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই। তবে যদি কেউ একটি অর্থবর্ষে কোনও সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ লক্ষ টাকার বেশি তোলা বা জমা করা হলে, তা আয়কর বিভাগের নজরে আসে।
গোটা অর্থবর্ষে মোট কত টাকা তোলা হয়েছে এবং কত টাকা জমা করা হয়েছে, তার বিবরণ হিসাব করা হয়। যদি এর পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যায়, তবে ব্যাঙ্কগুলি তা আয়কর বিভাগে পাঠিয়ে দেয়। টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
আয়কর আইন অনুযায়ী, ব্যাঙ্ক এবং পোস্ট অফিসগুলি বিপুল পরিমাণ লেনদেনগুলিকে ফিনান্সিয়াল ট্রানজ্যাকশনস রিপোর্ট (এসএফটি)-এর অধীনে রিপোর্ট করে। ব্যাঙ্কগুলি সকল লেনদেন ওই গ্রাহকের প্যান কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করে এবং তার প্রেক্ষিতে আয়কর বিভাগে পাঠিয়ে দেয়। আয়কর বিভাগ এই তথ্য অন্যান্য আর্থিক নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। আয়কর রিটার্ন, বার্ষিক তথ্য প্রতিবেদন (এআইএস), টিডিএস রেকর্ড এবং অন্যান্য আর্থিক বিবরণের সঙ্গে তুলনা করে।
যদি কোনও ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা ও জমা দেওয়ার পরিমাণ তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে না মেলে বা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে আয়কর বিভাগ চাইলে তদন্ত করতে পারে।
যদি কেউ বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন করেন, তাহলে আয়ের উৎস সম্পর্কে সঠিক কাগজপত্র ও তথ্য রাখা উচিত। তাহলে ভবিষ্যতে আয়কর বিভাগ নোটিস পাঠালেও কোনও সমস্যা হবে না।