
নয়া দিল্লি: বাড়িতে কম-বেশি সকলেরই অল্প-বিস্তর সোনার গহনা রাখা থাকে। ইমার্জেন্সির জন্য নগদ টাকাও রাখা থাকে। তবে অনেকেই ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন বা আইটিআর (ITR) ফাইল করার সময় এই টাকা বা সোনার হিসাব দেখান না। তবে আয়কর আইন ২০২৬ (Income Tax 2026) অনুযায়ী, বাড়িতে রাখা টাকা বা সোনার যদি হিসাব না দেখান, তাহলে বড় সমস্যায় পড়তে পারেন। এমনকী মোটা অঙ্কের জরিমানাও হতে পারে।
নতুন আয়কর আইনে যদি কোনও ব্যক্তি হিসাব বহির্ভূত আয় থাকে বা বাড়িতে বিপুল টাকা বা সোনা থাকে, তাহলে সরকার বড় অঙ্কের জরিমানা করতে পারে। মোট অঙ্কের ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। যদি কেউ আয়ের উৎস জানাতে না পারলে, ৮৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
আয়কর আইনের ১১৫ বিবিই ধারায় কোনও ব্যক্তির অঘোষিত আয়, নগদ টাকা, বিনিয়োগ, গহনা বা অন্যান্য খরচ, যার হিসাব নেই, সেগুলির উপরে বিশেষ ট্যাক্স (special tax) বসে। যদি কেউ তার অঘোষিত আয়ের উৎসও প্রমাণ করতে পারেন, তার পরও আয়ের উপরে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ট্য়াক্স বা কর দিতে হতে পারে। এর পাশাপাশি ২৫ শতাংশ সারচার্জ ও ৪ শতাংশ সেস বসবে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হবে। উদাহরণ হিসাবে যদি কারোর ১ কোটি টাকা অঘোষিত আয় হয়, তাকে ৭৮ লক্ষ টাকা কর দিতে হতে পারে।
যদি কারোর কাছে অঘোষিত সম্পত্তি থাকে, তাহলে আয়কর দফতর মোটা অঙ্কের জরিমানা করতে পারে। কর ও জরিমানা মিলিয়ে মোট আয় বা সম্পত্তির ৮৫.৮ শতাংশ কর দিতে হতে পারে।
নিয়ম অনুযায়ী, বাড়িতে টাকা রাখার কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। তবে যত টাকাই বাড়িতে রাখা থাকুক না কেন, তার আয়ের উৎস বা বৈধতা থাকতে হবে। যদি বাড়িতে রাখা টাকার কোনও রেকর্ড না থাকে বা আয়ের উৎস ব্যাখ্যা করতে না পারেন, তাহলে আয়কর বিভাগ এটিকে অঘোষিত সম্পত্তি বা আয় হিসাবেই গণ্য করবে এবং সেই অনুযায়ী জরিমানা করা হবে।
বিবাহিত মহিলারা নিজেদের কাছে সর্বাধিক ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনা রাখতে পারেন। অবিবাহিত মহিলারা সর্বাধিক ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত সোনা রাখতে পারেন নিজেদের কাছে। এর থেকে বেশি পরিমাণ সোনা থাকলেও, আয়কর বিভাগ তা বাজেয়াপ্ত করবে না যদি সেই সোনার গহনার বিল থাকে।