
নয়া দিল্লি: ভারতে এবার চালু হতে চলেছে ইথানল জ্বালানি (E-100)। অবশেষে ১০০ শতাংশ ইথানল (E-100 Fuel) চালুতে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় সরকার। এতদিন পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করা হত। অর্থাৎ পেট্রোলের সঙ্গে কখনও ২০ শতাংশ, আবার ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ১০০ শতাংশ ব্যবহারেও খুব শীঘ্রই অনুমোদন দেওয়া হবে বলে শোনা যাচ্ছিল। অবশেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করী জানিয়ে দিলেন, খুব শীঘ্রই রাস্তায় ইথানল চালিত গাড়ি ছুটবে। ভবিষ্যতে আর পেট্রোল-ডিজ়েলের প্রয়োজন হবে না।
মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন নিতিন গড়করী। সেখান থেকেই তিনি বলেন,”শুক্রবার রাত ৮টায় আমি ফাইলে সই করেছি। ১০০ শতাংশ ইথানল ব্যবহারের আইনি অনুমোদন চূড়ান্ত হয়েছে।” মন্ত্রী মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত ভারতের জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমিয়ে দেবে এবং বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় ঘটাবে।
নিতিন গড়করী জানান, দেশের ফ্লেক্স-ফুয়েল (Flex-Fuel) পরিবহন ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি গাড়ি সংস্থা ১০০ শতাংশ ইথানলচালিত সংস্করণ বাজারে এনেছে। ইতিমধ্যেই মারুতি সুজুকির ওয়াগনরের একটি মডেল উদ্বোধন করেছেন তিনি। যা সম্পূর্ণ ১০০ শতাংশ ইথানলে চলবে। এছাড়া আরও দু’টি মোটরসাইকেল বাজারে এসেছে যা সম্পূর্ণ ইথানলে চলবে। আগামীতে ১০০ শতাংশ ইথানলচালিত আরও গাড়ি বাজারে আসতে চলেছে।
E-100 হল এমন এক ধরনের জ্বালানি, যা সম্পূর্ণভাবে ইথানল দিয়ে তৈরি। সাধারণত আখ, ভুট্টা এবং অন্যান্য কৃষিজ পণ্য থেকে ইথানল উৎপাদন করা হয়।
বর্তমানে পেট্রোলের সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে ইথানল মিশিয়ে ব্যবহার করা হলেও E-100 জ্বালানির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ইথানলই ব্যবহার করা হবে। এর জন্য বিশেষভাবে তৈরি ফ্লেক্স-ফুয়েল ইঞ্জিনযুক্ত গাড়ির প্রয়োজন হবে। এই ধরনের যানবাহন পেট্রোল, বিশুদ্ধ ইথানল অথবা দু’টির মিশ্রণে চলতে পারে এবং একই ফুয়েল ট্যাঙ্ক ব্যবহার করে।
ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের অর্থনীতির উপর। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে ভারত বিকল্প জ্বালানির উপর জোর দিচ্ছে।