Hydrogen Train: দেশে এবার ছুটবে হাইড্রোজ়েন চালিত ট্রেন! অনুমোদন দিল রেল, জানেন এর বিশেষত্ব?

Hydrogen Train in India: হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে হাইড্রোজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ক্ষতিকর ধোঁয়া বা কার্বন নির্গত হয় না। ফলে অন্যান্য ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় হাইড্রোজ়েন চালিত ট্রেন অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ট্রেনটি চলার সময় নিজেই নিজের জন্য বিদ্যুৎ তৈরি করে।

Hydrogen Train: দেশে এবার ছুটবে হাইড্রোজ়েন চালিত ট্রেন! অনুমোদন দিল রেল, জানেন এর বিশেষত্ব?
হাইড্রোজ়েন ট্রেনImage Credit source: Tv9 Bangla

Jun 26, 2026 | 8:10 PM

নয়া দিল্লি: ভারতে এবার ছুটবে হাইড্রোজ়েন চালিত ট্রেন (Hydrogen Train)। আগেই জানা গিয়েছিল, খুব শীঘ্রই দেশে হাইড্রোজ়েন চালিত ট্রেনের পরিষেবা চালু করবে রেল কর্তৃপক্ষ। অবশেষে পরিবেশবান্ধব রেল পরিষেবায় বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চালানোর অনুমোদন দিয়েছে ভারতীয় রেল।হরিয়ানার ঝিন্দ-সোনিপত রুটে এই ট্রেন চলবে। ইতিমধ্যে ট্রায়াল রানও সম্পূর্ণ হয়েছে। এরপরই হাইড্রোজ়েন চালিত ট্রেন চালানোতে অনুমোদন দিল ভারতীয় রেল (Indian Railway)। ব্রডগেজ নেটওয়ার্কে এটিকে বিশ্বের সবথেকে দীর্ঘ এবং শক্তিশালী হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

হাইড্রোজ়েনচালিত রেল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছে জার্মানি, জাপান, চিন ও আমেরিকার মতো দেশগুলি। এবার সেই তালিকায় নাম লেখাল ভারতও। জানা গিয়েছে, ঘণ্টায় ১২০ কিমি বেগে ট্রেনটি ছুটবে।

কী কী বিশেষত্ব রয়েছে ট্রেনে?

ট্রেনে থাকবে ১০টি কোচ। ১,২০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে ট্রেনটি চলবে। কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক দিক থেকে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলবে। তবে, পরীক্ষামূলকভাবে প্রতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চালানো হবে।

ট্রেনে থাকবে দুটি ড্রাইভিং পাওয়ার কার। প্রত্যেক কারের ক্ষমতা ১,২০০ কিলোওয়াট। বাকি আটটি কোচ যাত্রী পরিবহণের জন্য ব্যবহার করা হবে। ট্রেনের ভিতরেই হাইড্রোজেন সিলিন্ডার, ফুয়েল সেল, ব্যাটারি এবং কন্ট্রোল সিস্টেমের জন্য বিশেষ জায়গা রাখা হয়েছে। রেল সূত্রে খবর, একবার হাইড্রোজেন ভরলেই ট্রেনটি প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ চলতে পারবে।

কীভাবে কাজ করে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল?

হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে হাইড্রোজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ক্ষতিকর ধোঁয়া বা কার্বন নির্গত হয় না। ফলে অন্যান্য ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় হাইড্রোজ়েন চালিত ট্রেন অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ট্রেনটি চলার সময় নিজেই নিজের জন্য বিদ্যুৎ তৈরি করে।

হাইড্রোজেন সংরক্ষণে কড়া নিরাপত্তা

নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রেনের সামনে ২৭টি এবং পিছনে ২৭টি হাইড্রোজ়েন সিলিন্ডার বসানো হয়েছে। এই ট্রেনের জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং কেন্দ্র।

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি

ট্রেনটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের আওতায় সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে। ট্রেনের নকশা করেছে লখনউয়ের ‘রিসার্চ ডিজাইনস অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (RDSO)। আর উৎপাদনের দায়িত্বে ছিল চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (ICF)।

কেন বেছে নেওয়া হল ঝিন্দ-সোনিপত রুট?

রুটটিকে পরীক্ষামূলক বা ট্রায়ালের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় রেলের প্রায় ৯৯.২ শতাংশ ব্রডগেজ নেটওয়ার্ক বিদ্যুতচালিত। তাই হাইড্রোজেন ট্রেন কিন্তু বৈদ্যুতিক ট্রেনের বিকল্প নয়। বরং দুর্গম এলাকায় ওভারহেড বৈদ্যুতিক লাইন বসানো কঠিন,সেখানে ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

Follow Us