
নয়া দিল্লি : সোনার (Gold Price) পর এবার রুপো আমদানিতেও (Silver Import) বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। বেশ কয়েকটি শ্রেণীর রুপোর আমদানিতে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এর অর্থ হল, নির্দিষ্ট শ্রেণীর রুপো আমদানি করা আগের মতো আর সহজ থাকবে না। এর জন্য অতিরিক্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। কোন কোন শ্রেণির রুপোর (Silver Price) উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে কারা লাভবান হতে পারে বা কাদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে জেনে নেওয়া যাক।
সরকারের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য মূল্যবান ধাতুর ক্রমবর্ধমান আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। সাম্প্রতিক সময়ে সোনা ও রুপোর আমদানির ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছিল। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। মূলত, ৯৯.৯ শতাংশ খাঁটি রুপোর বার আমদানির ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
রুপো কেনার প্রবণতা বাড়ছে। আসলে সোনার ওপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির ফলে মানুষ বিনিয়োগ ও গয়না কেনার জন্য রুপোর দিকে আরও বেশি ঝুঁকছে বা ঝুঁকতে পারে। সেই কারণে কেন্দ্রীয় সরকার রুপো আমদানির ওপর আরও কড়া বিধিনিষেধ করতে শুরু করেছে। সরকার সম্প্রতি সোনা ও রুপো উভয়ের ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। তা সত্ত্বেও, আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে সোনার তুলনায় রুপোর দাম কম হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এর কেনা বাড়িয়ে দিতে পারেন।
সরকার বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার সংরক্ষণের ওপর চাপ কমানোর দিকে মনোনিবেশ করছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং আমদানি ব্যয় সরকারকে সতর্ক করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মূল্যবান ধাতুর আমদানি বাড়তে থাকলে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণেই সরকার এখন আমদানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে সোনা ও রুপার আমদানি প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর পেছনে উচ্চ আমদানি শুল্ক এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক মূল্যকে প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। এখন, নতুন বিধিনিষেধের ফলে আগামী মাসগুলোতে রুপোর আমদানি আরও হ্রাস পেতে পারে।