
নয়া দিল্লি: জ্বালানি রফতানির ক্ষেত্রে উইন্ডফল ট্যাক্সের (Windfall Tax) কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। ডিজেল (Diesel) এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর উপর অতিরিক্ত রফতানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, পেট্রোল রফতানির উপর কর কমানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৬ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে এই পরিবর্তন। প্রতি ১৫ দিন অন্তর কেন্দ্র এই করের হার পর্যালোচনা করে।
নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পেট্রোল রফতানির উপর অতিরিক্ত শুল্ক প্রতি লিটারে ৪ টাকা থেকে কমিয়ে ২.৫ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে,ডিজেলে উইন্ডফল ট্যাক্স বা রফতানি শুল্ক প্রতি লিটারে ৮.৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫.৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে, বিমানের জ্বালানির রফতানির উপরও কর বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্র।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপিছু ৮৪.৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। যা এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ, আমেরিকা ফের ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ জোরদার করায় হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, নতুন করে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা তৈরি হওয়া, তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং রাশিয়া থেকে ডিজেল রফতানি কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। সেই কারণেই ডিজেলের উপর রফতানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।
গত ১১ জুন কেন্দ্রীয় সরকার শিল্প, বাণিজ্যিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক (Industrial, Commercial and Institutional) গ্রাহকদের জন্য পেট্রোল পাম্প থেকে সরাসরি পেট্রোল ও ডিজেল কেনার উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, খুচরো পাম্পের পরিবর্তে বাল্ক সাপ্লাই চ্যানেলের মাধ্যমে জ্বালানি কিনতে হবে। এর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা।
তখন কেন্দ্র জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ও শিপিং পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটেছে। পাশাপাশি, বাল্ক গ্রাহকেরা খুচরো পাম্প থেকে জ্বালানি কেনা শুরু করায় খুচরো বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছিল। নির্দেশ অনুযায়ী, পেট্রোল পাম্প থেকে ডিজেল শুধুমাত্র গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্কে বা PESO-অনুমোদিত পাত্রে দেওয়া যেত। একজন ব্যক্তি বা একটি গাড়ি দিনে সর্বাধিক ২০০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল কিনতে পারতেন।
এই নির্দেশ সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল এবং প্রয়োজনে নতুন নির্দেশ দিয়ে তার মেয়াদ বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনাও ছিল। নিয়ম ভাঙলে অত্যাবশ্যক পণ্য আইন (Essential Commodities Act)-এর আওতায় শাস্তির ব্যবস্থাও ছিল। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় কেন্দ্র ২৯ জুন সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।