
হায়দরাবাদ: কারেন্ট যাবে না। আর প্রয়োজন হবে না কোনও এমার্জেন্সি লাইট বা ইনভার্টার। এখানেই শেষ নয়,জলও মিলবে ২৪ ঘণ্টা। সেইসঙ্গে সবসময় হাইস্পিড ইন্টারনেট। এতটুকু নেট স্লো হবে না নেট বন্ধ হবে না। ভাবতে পারছেন? বাস্তবে এমনটাই হতে চলেছে। একটা শহরেই সব সুবিধা পেতে পারেন। তৈরি হচ্ছে ডেটা সেন্টার সিটি। দেশের প্রথম ডিজিট্যাল শহর হচ্ছে হায়দরাবাদে। কোথায় হচ্ছে, আর কী কী সুবিধা পাবেন জেনে নিন
হায়দরাবাদ থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে আলোর (Allore) নামে একটি গ্রামে ডেটা সেন্টার সিটি তৈরি করা হবে। প্রায় ১,৫০০ একর জমির উপর তৈরি হবে। লক্ষ্য, এমন একটি আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা যেখানে ডেটা সেন্টার সংস্থাগুলি একই জায়গায় বিদ্যুৎ, জল, হাই-স্পিড ফাইবার নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল পরিষেবার দ্রুত বিস্তারের কারণে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের এই প্রকল্পকে দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামোর বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেটা সেন্টার সিটি সাধারণ আইটি পার্কের মতো নয়। এটি এমন একটি বিশেষ এলাকা,যেখানে ডেটা সেন্টার নির্মাণকারী সংস্থাগুলির সমস্ত প্রয়োজন আগেভাগেই মাথায় রেখে পরিকাঠামো তৈরি করা হয়। বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, হাই-স্পিড ফাইবার নেটওয়ার্ক, আধুনিক কুলিং ব্যবস্থা, ব্যাকআপ পাওয়ার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অন্যান্য ইউটিলিটি পরিষেবাও একসঙ্গে গড়ে তোলা হবে। ফলে সংস্থাগুলিকে আলাদা করে বিদ্যুৎ, জল বা ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করতে হবে না।
ডেটা সেন্টারে হাজার হাজার সার্ভার সারাক্ষণ চালু রাখতে বিশাল কুলিং সিস্টেম, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, ট্রান্সফরমার, জলাধার, ব্যাকআপ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। ভবিষ্যতের চাহিদা মাথায় রেখে নতুন সংস্থাগুলির জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা রাখতেই এত বড় এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডেটা সেন্টার ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। তাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও কার্যকর কুলিং ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হায়দরাবাদ মেট্রোপলিটন ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ বোর্ডের ৪১টি এসটিপি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫৩০ এমএলডি শোধিত জল পৃথক পাইপলাইনের মাধ্যমে ডেটা সেন্টার ও শিল্পাঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে পানীয় জলের উপর চাপ কমবে এবং জল পুনর্ব্যবহারও বাড়বে।
আগে ডেটা সেন্টার মূলত ওয়েবসাইট ও ক্লাউড পরিষেবার জন্য ব্যবহৃত হত। কিন্তু এখন জেনারেটিভ AI, মেশিন লার্নিং-এর কারণে ডেটা প্রসেসিংয়ের চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। আগে যেখানে একটি সার্ভার ৫ থেকে ১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করত, এখন GPU-ভিত্তিক AI সিস্টেমের জন্য ৩০ থেকে ১২০ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রয়োজন হচ্ছে।
হায়দরাবাদ ইতিমধ্যেই Amazon, Microsoft, CtrlS, CapitaLand, STT Global, NTT Data, Sify এবং Tillman Global Holdings-এর মতো সংস্থার ডেটা সেন্টারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বর্তমানে সেখানে ১৫০-২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫ গিগাওয়াট ক্ষমতার নতুন প্রকল্প নির্মীয়মাণ এবং তেলাঙ্গানায় ১১ গিগাওয়াটেরও বেশি ক্ষমতার প্রস্তাবিত ডেটা সেন্টার প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই একাধিক মউ সাক্ষরিত হয়েছে।